দুর্গাপুজোর ‘পাস’ বিক্রিতে কোটি টাকার দুর্নীতি! গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, ১২ দিনের পুলিশ হেফাজত

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোর পাস বিক্রি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্য রাজনীতির পরিচিত মুখ, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মামলাটিতে প্রাক্তন মন্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন জানালে আদালত তাঁকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
কী এই পুজো পাস দুর্নীতি মামলা?
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়ার পর শহরের নামী পুজো মণ্ডপগুলিতে বিশেষ পরিদর্শনের জন্য (পাস ও টিকিট) বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, এই ইউনেস্কো স্বীকৃতির আড়ালেই চলে বিরাট আর্থিক জালিয়াতি ও কাটমানির খেলা।
আদালতে সরকারি আইনজীবীর বিস্ফোরক যুক্তি
আদালতে শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন:
ইউনেস্কোর নামে অসৎ ব্যবহার: ইউনেস্কো বাণিজ্যিকভাবে কোনো টিকিট বা পাস বিক্রির অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু ‘ম্যাসার্ট’ (Mass-Arté) নামের একটি সংস্থাকে সামনে রেখে ২৪টি পুজো মণ্ডপ বেছে নেওয়া হয় এবং বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকা তোলা হতে থাকে।
চুক্তির আগেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন: নথিপত্র অনুযায়ী ২০২৫ সালে চুক্তি হলেও, বিস্ময়করভাবে ২০২২ সাল থেকেই প্রিভিউ পাসের নামে বাজার থেকে টাকা তোলা হচ্ছিল।
টাকা ঘোরানোর রহস্যময় চক্র (Money Trail): সরকারি আইনজীবী বিস্ফোরক দাবি করে জানান, জালিয়াতির টাকা প্রথমে একটি নির্দিষ্ট সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই সেই সংস্থার হাত ঘুরে টাকা পৌঁছাত খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীর কাছে।
মূল চক্রী ইন্দ্রনীল সেন: প্রসিকিউশনের দাবি, এই পুরো জালিয়াতি ও টেন্ডার দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্য চালিকাশক্তি ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন নিজেই। সমস্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া তাঁর নজরদারিতেই সম্পন্ন হয়েছে।
১২ দিনের কড়া পুলিশ হেফাজত
মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূণ এবং জালিয়াতির জাল বহু দূর বিস্তৃত বলে আদালতকে জানান তদন্তকারীরা। বহু গোপন নথি ও আর্থিক লেনদেনের সত্যতা প্রকাশ্যে আনতে ইন্দ্রনীল সেনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। সমস্ত সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক প্রাক্তন মন্ত্রীকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি মঞ্জুর করেন।