৪৫০ নয়, এবার সরাসরি ৮০০ কিমি! শত্রুর ঘুম ওড়াতে ব্রহ্মসে বিরাট পরিবর্তন আনছে ভারত

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ এবার আরও বেশি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রূপ নিতে চলেছে। ডিআরডিও (DRDO) এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার ক্ষমতা বর্তমান ৪৫০ কিলোমিটার থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৮০০ কিলোমিটার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই পদক্ষেপ ভারতের নৌ ও স্থল প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে।
কীভাবে বাড়ানো হচ্ছে ব্রহ্মসের পাল্লা?
ব্রহ্মস মূলত একটি অ্যাডভান্সড র্যামজেট ইঞ্জিন চালিত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রটির জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে যাতে এটি আরও অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে, সে জন্য এর ইঞ্জিনে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সবচেয়ে সুবিধাজনক বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্রটির লঞ্চার ও সহায়ক পরিকাঠামোয় কোনও বড় পরিবর্তনের দরকার হবে না। অর্থাৎ, ভারতীয় নৌবাহিনীর যে সমস্ত যুদ্ধজাহাজে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস মোতায়েন রয়েছে, সেগুলি অপরিবর্তিত রেখেই নতুন সংস্করণের সুবিধা নেওয়া যাবে। এতে দেশের কোটি কোটি টাকা এবং বিপুল সময় দুই-ই সাশ্রয় হবে।
বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়ায়, র্যামজেট ইঞ্জিন সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে জ্বালানি খরচ বহুগুণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে কম ইন্ধনেও দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। এছাড়া উন্নত এই সংস্করণে নেভিগেশন সিস্টেম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ওয়ারহেড বহন ক্ষমতার ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরীক্ষার সময়সূচি ও উৎপাদন
উন্নত র্যামজেট ইঞ্জিন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা প্রথমে দেশীয় গবেষণাগারেই সম্পন্ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে: ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রাথমিক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুরু হবে।
২০২৭-এর শেষ বা ২০২৮-এর শুরুতে: সার্বিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
২০২৮ সালের মধ্যে: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের জন্য পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রফতানি ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর নিয়ম মেনে ভারত বর্তমানে ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস সংস্করণটি অন্য দেশে রফতানির জন্য উৎপাদন বজায় রাখবে। তবে এই নতুন ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার বর্ধিত সংস্করণটি এক্সক্লুসিভভাবে তৈরি করা হচ্ছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য।
এই ক্ষমতা যুক্ত হলে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনী শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের অনেক গভীরে বা মাঝসমুদ্রে থাকা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতি হতে চলেছে।