২৮ নভেম্বর কি হচ্ছে না পুরভোট? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে বড়সড় জট, নবান্নের চিঠির অপেক্ষায় কমিশন!

রাজ্যের পৌরসভা ও মিউনিসিপ্যালিটিগুলির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, নবান্নের সবুজ সংকেত না মেলায় আপাতত তা পিছিয়ে যাচ্ছে। কবে নাগাদ নির্বাচন করানো সম্ভব, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মতামত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর না আসায় থমকে রয়েছে ভোটপ্রক্রিয়া। তা সত্ত্বেও রাজ্যের বাকি পৌরসভাগুলিতে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন। নির্বাচন পরিচালনার সামগ্রিক রূপরেখা তৈরি করে পর্যবেক্ষক বা অবজারভারদের তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করে ফেলেছে কমিশন। আগামী ১২ নভেম্বর ওয়ার্ডভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকার আদলেই পুরভোটের এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের সাংবিধানিক সময়সীমা রয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত জবাব না মেলায় নির্বাচনের দিনক্ষণ ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। যদিও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করেছেন যে, ভোট সম্পূর্ণ পিছিয়ে দেওয়ার মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা চলছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে এবার কোনো ‘নোটো’ (NOTA) বিকল্প রাখা হচ্ছে না। মোট ৪,৭১১টি বুথে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে, যেখানে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ মোট ২২,৬১৩ জন ভোটকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ভোটকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে রাজ্য পুলিশের মাধ্যমেই কলকাতা ও হাওড়ার নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।