মমতার মোহভঙ্গ! তৃণমূলে ফেরার হিড়িকের মাঝেই বিস্ফোরক মদন মিত্রের মহা-ঘোষণা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক কোন্দল এবং পরবর্তীতে ঘাসফুল শিবিরের দু’ভাগ হয়ে যাওয়ার অধ্যায়ে এবার এল এক বিরাট মোড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে’ নাম লেখানো একাধিক অসন্তুষ্ট বিধায়ক ও নেতা এখন ফের পুরনো ঘরে বা মূল দলে ‘ঘর ওয়াপসি’ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই দলবদলের হিড়িকে যখন কোণঠাসা অবস্থা নতুন দলটির অন্দরে, ঠিক তখনই সুর বদলাতে শুরু করেছেন খোদ মদন মিত্র। যদিও সরাসরি নিজের দলবদলের কথা তিনি স্বীকার করেননি, তবে কামারহাটির এই প্রভাবশালী বিধায়ক সাংবাদিক বৈঠক করে এক প্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে রাজ্যে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে হলে একমাত্র ভরসা হতে পারে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’।

সাংবাদিক বৈঠকে মদন মিত্র অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির আক্রমণ এক ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই বিপজ্জনক শক্তির বিরুদ্ধে যদি প্রকৃত এবং আপসহীন লড়াই করতে হয়, তবে তা করতে পারবে একমাত্র ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’।” একই সঙ্গে দলত্যাগী বা মমতার পক্ষে থাকা নেতাদের নিশানা করে তিনি বলেন, “যাঁরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়ে গেছেন, তাঁদের কাছে আমার পরিষ্কার প্রশ্ন—আপনার কি সত্যিই বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শগত ও আসল লড়াই চান, নাকি লোকদেখানো যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা করতে চান?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ভাঙার এই খেলায় মদন মিত্রের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। মদনবাবু দাবি করেছেন যে, রাজ্যের কোণ থেকে কোণে লক্ষ লক্ষ সাধারণ কর্মী ও সমর্থক ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে’ যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিয়েছেন। তাই আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা অসম্ভব বলে দাবি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এর আগেও একাধিকবার মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি বিজেপি শিবিরের সঙ্গে ‘সেটিং’ করে চলার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কামারহাটির এই হেভিওয়েট বিধায়ক। শাসক শিবিরের ভাঙন ও মদন মিত্রের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এখন তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।