অনুমতি বাতিল হতেই খাড়গের বাসভবনে সরছে CEC-র বিরুদ্ধে বিরোধীদের মহা-প্রতিবাদ!

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। সংবিধানের মূল ভাষ্য ও চেতনা লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভিত্তি ধ্বংস করার মতো গুরুতর অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে ‘ইন্ডি’ (INDIA) শিবির। প্রথমে অশোকা হোটেল এবং রামলীলা ময়দানে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও, দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদল করতে বাধ্য হয়েছে বিরোধী জোট। আগামী ৩০ অক্টোবর বিকেলে দিল্লির ১০, রাজাজি মার্গে এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবনেই এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শাণিত করে লিখেছেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সংবিধানের ভাষ্য ও চেতনাকে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তিনি আমাদের নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছেন। সহজ কথায় বলতে গেলে, তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে মিথ্যা বলেছেন।” পাশাপাশি তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে যোগ করেন, “যুগলবন্দি এক শক্তির হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন—যাদের সময়ও একসময় আসবে।”
মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করে জানায়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি সুপরিকল্পিতভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ‘ধ্বংস’ করার পর বর্তমান সরকার এখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে ‘চাপা দেওয়ার’ চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন অশোকা হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই সভা বা কর্মসূচি আয়োজনের প্রাথমিক অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে পুলিশের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান বুক করেছিল কংগ্রেস এবং কর্মসূচিটি সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
বেণুগোপাল আরও জানান, ‘ইন্ডি’ জোটভুক্ত ২১টি রাজনৈতিক দল একযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি পালনের রূপরেখা প্রস্তুত করেছিল। মূলত আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে যে বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, এটি তারই একটি প্রাক-প্রস্তুতি বা সূচনা পর্ব হিসেবে আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল। তাঁর কথায়, “আমাদের কর্মীরা যখন সেখানে মঞ্চ ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করতে যান, তখনই পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়। ঠিক কী কারণে এমন অগণতান্ত্রিক আচরণ করা হল, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।” ১ নভেম্বরের মেগা সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবারই তিনি দিল্লি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রামলীলা ময়দান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কেসি বেণুগোপাল পরবর্তীতে অভিযোগ করেন, “এর স্পষ্ট অর্থ হলো, এটি কেবল দিল্লি পুলিশের কোনো রুটিন সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজনৈতিক নির্দেশ। তাঁরা আসলে নিজেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অফিসার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে তাঁরা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন, আর এখন যাঁরা প্রকৃত গণতন্ত্র বাঁচানোর এই কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কণ্ঠরোধ করতে নানা ফন্দি আঁটছেন।” ৩০ অক্টোবরের এই খাড়গের বাসভবনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে।