ইজরায়েলে ক্ষমতার বিরাট লড়াই! হাড্ডাহাড্ডি ভোটে কি সিংহাসন হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু? জানুন তাজা আপডেট!

ইজরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা। ১২০ আসনের কনেসেটে চলছে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই, যেখানে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অগ্নিপরীক্ষায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৬০ শতাংশের কাছাকাছি ব্যালটের গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে নেতানিয়াহু পন্থী জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোটের দখলে রয়েছে ৪৯টি আসন। পাশাপাশি, বাকি ১৬টি আসন নিজেদের ঝুলিতে রেখেছে আরব দলগুলির জোট। ইজরায়েলের সংসদ বা কনেসেটে ম্যাজিক ফিগার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে যেকোনো দল বা জোটকে কমপক্ষে ৬১টি আসন পেতেই হবে। ফলে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।

ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে আসন সংখ্যার হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালের দিকে মোট ব্যালট বাক্সের ৫৭.৩ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই দফায় নেতানিয়াহু পন্থী জোট ৫৫ থেকে ৫৬টি আসনের মধ্যে ওঠানামা করলেও, বিরোধী শিবির ৪৯ থেকে ৫০টি আসনের আশপাশে রয়েছে। অন্যদিকে আরব দলগুলির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১৫ থেকে ১৬-র ঘরে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভোটের এই ব্যবধান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সরকার গঠনের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে নারাজ। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের মুখ আইজেনকোট দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন যে, এবার তারাই সমস্ত সমীকরণ বদলে দিয়ে সিংহাসনে বসবেন।

তবে শুধু বড় দলগুলিই নয়, বিপাকে পড়েছে বেশ কিছু ছোট রাজনৈতিক দলও। ইজরায়েলি পার্লামেন্টে বা নেসেটে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য প্রতিটি দলকে ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোটের যে থ্রেশহোল্ড বা সীমা পেরোতে হয়, তা অর্জন করতে গিয়ে চরম ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ছোট দলগুলিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘রিজার্ভিস্টস পার্টি’ ২.৬ থেকে ২.৭ শতাংশ ভোট পেলেও, ‘পিপল অফ ইসরায়েল’ মাত্র ১.৭ শতাংশ এবং ‘হেরাডি পাবলিক পার্টি’ মাত্র ০.২ শতাংশ ভোটেই আটকে গেছে। নিয়মানুযায়ী এই দলগুলি নির্দিষ্ট কোটা পার করতে না পারলে নেসেটে কোনো প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত ইজরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।