এআই নাকি আসল গলা? ‘রামায়ণ’ মুক্তি পাওয়ার আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসে গোপন সত্য ফাঁস নীতেশ তিওয়ারির!

রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী এবং যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ: রাইজ অফ আ লেজেন্ড’ নিয়ে গোটা দেশজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা ও উন্মাদনা তুঙ্গে। আগামী ৫ নভেম্বর, দীপাবলির বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে এই মেগা বাজেট পৌরাণিক মহাকাব্য। তবে ছবি মুক্তির ঠিক আগে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে হয়ে গেল এর এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য প্রিমিয়ার। আর সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকেই ছবির ডাবিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার নিয়ে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন খোদ পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি।

দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, এতগুলো ভিন্ন ভাষায় মুক্তি পেতে চলা এই ছবির ডাবিং কি সম্পূর্ণভাবেই এআই বা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে? লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রিমিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিচালক এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জোরালোভাবে জানিয়ে দেন যে, ছবির ডায়লগ বা ডাবিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়নি। গলার আসল আবেগ ফুটিয়ে তুলতে পেশাদার ও আসল শিল্পীদের কণ্ঠই রাখা হয়েছে।

তা হলে ছবিতে এআই-এর ভূমিকা ঠিক কী?

পরিচালক ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকের কাছে তাঁদের নিজেদের মাতৃভাষায় এই ছবিটিকে নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিতেই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য ভাষায় ডাবিং করার সময় অনেক সময়ই অভিনেতাদের ঠোঁট নাড়ার সঙ্গে মুখের কথার অমিল দেখা যায়, যা পর্দায় দেখতে বেশ বেমানান লাগে। দর্শক যাতে অন্য ভাষায় ছবি দেখলেও কোনো অসঙ্গতি বা কৃত্রিমতা অনুভব না করেন, ঠিক সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই কেবল লিপ-সিঙ্ক বা ঠোঁটের নড়াচড়া নিখুঁত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির পরিষ্কার কথা, “ডাবিংয়ে কোনো এআই ব্যবহার করা হয়নি। গলার আওয়াজ সম্পূর্ণভাবে আসল শিল্পীদেরই। এআই কেবল নিখুঁতভাবে ঠোঁটের নড়াচড়া ঠিক করার জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে।”

লস অ্যাঞ্জেলেসের এই জমকালো গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ছবির মূল তারকারা— রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী এবং যশ। অত্যন্ত বিশাল বাজেটে তৈরি এই মহাকাব্যটি দুটি ভাগে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রথম পর্ব আসছে আগামী ৫ নভেম্বরেই। অত্যাধুনিক ভিএফএক্স (VFX) এবং উন্নত প্রযুক্তির মেলবন্ধনে রূপোলি পর্দায় ভারতের এই প্রাচীন ইতিহাস দেখার জন্য এখন দিন গুনছেন সিনেমাপ্রেমীরা।