সংখ্যালঘুরাও এখন বিজেপির সঙ্গে! রেজিনগর জয় নিয়ে বিরাট দাবি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাতে শুরু করেছে? রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে জয়ী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে জয়ী শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকারের বয়স সবেমাত্র ছ’মাস হয়েছে এবং আগামী সাড়ে চার বছরে উন্নয়নের আরও অনেক বড় পদক্ষেপ নেওয়া বাকি রয়েছে।

বিধানসভায় নিজের বক্তৃতায় শুভেন্দু শাসক শিবির এবং বিরোধী দলগুলিকে একহাত নেন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দিয়ে সংখ্যালঘুদের দূরে সরিয়ে রাখার যে রাজনীতি চলে আসছে, রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল তাকে সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রেজিনগরের মানুষ সমস্ত রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি প্রার্থীদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যেভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তা এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

প্রচার পর্বের একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথাও বিধানসভায় তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার সময় চকলেট কুড়াতে গিয়ে একটি ছোট মেয়ের অত্যন্ত দুঃখজনক মৃত্যু হয়েছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই শিশুটির বাড়িতে যান এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য মৃতার মা-বাবার হাতে তুলে দেন। শুভেন্দুর এই মানবিক উদ্যোগ রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মন জয় করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া তিনি জানান, রেজিনগরে প্রায় ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধাভোগী, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী।

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করে শুভেন্দু বলেন, যাঁরা তাঁদের কেবল ‘হিন্দুদের দল’ বলে দাগিয়ে দিতে চান, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর সাফ কথা—হ্যাঁ, তাঁরা হিন্দু এবং সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন, কপালে টিকাও রাখেন। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে জাত-পাত বা ধর্মের বিচার না করে যার যা প্রয়োজন, তাঁকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রেজিনগরে ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে শাখারভ সরকারের এই বিপুল জয় প্রমাণ করে যে, মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বিরোধী দল তথা এই রাজনৈতিক শক্তি।

সরকারের কার্যকাল নিয়ে একটি রূপক ব্যবহার করে শুভেন্দু বলেন, “এটাতো সবেমাত্র সরকারের ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। এখনও সাড়ে চার বছর, অর্থাৎ ৫৪ মাস বাকি আছে। ছ’মাসে যা দেখেছেন তা কেবল সকালের চা-বিস্কুট। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি, লাঞ্চ এখনও বাকি রয়েছে।” উন্নয়নের এই দীর্ঘ যাত্রায় কীভাবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা যায়, সেটাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।

পাশাপাশি, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতব্রত সংক্রান্ত একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, বিরোধী শিবির বা অন্য কারোর সঙ্গেই অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনা রাজ্যে ঘটতে দেওয়া যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। সব মিলিয়ে, বিধানসভার এই অধিবেশন এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝাঁঝাল অথচ দূরদর্শী বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।