আপনার অলক্ষে নিঃশব্দে ঘাতক হয়ে উঠছে দৈনন্দিন লাইফস্টাইল! কীভাবে এড়াবেন মারাত্মক ব্রেন স্ট্রোক?

কাজের চরম ব্যস্ততায় ঢাকা আধুনিক জীবনে আমরা প্রায়শই নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি মারাত্মক অবহেলা করে ফেলি। সকালে তাড়াহুড়ো করে ব্রেকফাস্ট সারা, অফিসে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ল্যাপটপে কাজ করা এবং রাতে ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরা—আজকাল অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন ঠিক এমনই। এমনকি গভীর রাতেও অফিসের জরুরি ইমেল, অসমাপ্ত প্রেজেন্টেশনের চাপ কিংবা মোবাইল স্ক্রিনের নেশায় ঘুমের সঙ্গে আপস করা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। অনেকেই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পান না, অথচ এই দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসগুলিই ব্রেন স্ট্রোকের মতো জীবনঘাতী ঝুঁকির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে, বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে ব্রেন স্ট্রোক ঘটে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং কোলেস্টেরল এর বড় অনুঘটক। টানা ডেস্কে বসে কাজ করা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট প্রাথমিক লক্ষণ থাকে না, ফলে অলক্ষেই তা মস্তিষ্কের নালির মারাত্মক ক্ষতি করে চলে।
অনেকে মনে করেন দিনে ৩০ মিনিট হাঁটলেই বুঝি সব অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি একেবারেই ভুল ধারণা। নিয়মিত হাঁটা ভালো অভ্যাস হলেও তা ধূপমান বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের ক্ষতিকে একা মুছে ফেলতে পারে না। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাই স্ট্রোক প্রতিরোধের আসল উপায়। মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া, শরীরের একদিক অবশ লাগা, অস্পষ্ট কথা বা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলেই কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।