‘কাল থেকে শুরু করব’ বললেই ঠকে যাবেন! আজ থেকেই দৈনিক আধঘণ্টার এই রুটিনে দূর হবে সব মানসিক অবসাদ

আজকের এই অতি দ্রুতগতির আধুনিক জীবনে ক্রমাগত মানসিক চাপ, কাজের তীব্র চাপ এবং নানাবিধ দায়িত্বের ভিড়ে নিজের জন্য একটু সময় বের করা যেন একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর দিনের শেষে প্রায়শই মনে হয়, পুরো ২৪ ঘণ্টা যেন চোখের পলকে পলকে পেরিয়ে গিয়েছে, অথচ নিজের জন্য কিছুই করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন চাকা ঘোরার মাঝেও প্রতিদিন যদি নিজের জন্য মাত্র ৩০ মিনিট সময় আলাদা করে রাখা যায়, তবে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন রুটিন, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রায় এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করবে। জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনার জন্য সবসময় বড়সড় কোনো কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় না, বরং অনেক সময় ছোট ছোট সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাসই আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় ও গভীর প্রভাব ফেলে।
সকালের প্রথম ৩০ মিনিট পুরো দিনের কাজের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই নতুন শুরু করতে পারেন। ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের প্রথম ৩০ মিনিট মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে কাটালে তা আপনার দিনটিকে একটি চমৎকার ও সতেজ সূচনা দিতে পারে। মোবাইল স্ক্রিনে অর্থহীন সময় নষ্ট না করে, এই সময়টাতে আপনি হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন, একটু ভোরের বাতাসে হাঁটতে বের হতে পারেন, প্রাণায়াম বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন, অথবা কেবল শান্ত হয়ে এক কোণে বসে সারাদিনের কাজের একটি সুন্দর পরিকল্পনা করে নিতে পারেন। সকালের এই শান্ত সময়টুকু কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো ছাড়াই আপনার মনকে সারাদিনের চ্যালেঞ্জ সামলানোর জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
ব্যায়ামকে আপনার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করুন। ‘আগামীকাল থেকে পাকাপাকিভাবে জিমে যাওয়া শুরু করব’—এই চিরন্তন অলসতার চক্র থেকে এবার আপনার বেরিয়ে আসা দরকার। কেবল বড় বড় জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করে, আপনি খুব সহজেই আপনার নিজের বাড়িতে ৩০ মিনিট সময় বের করে নিতে পারেন। হাঁটা, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম বা সামান্য স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের জন্য ঘরের ছোট জায়গাটুকুই যথেষ্ট। জিমে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ নেই মানেই এই নয় যে আপনি আপনার শরীরকে সচল রাখতে পারবেন না। খুব জটিল কোনো ব্যায়াম করার কোনো প্রয়োজন নেই, কেবল নিয়মিতভাবে প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার সময় এর জন্য বরাদ্দ করার দুর্দান্ত অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এর পাশাপাশি আপনার পুরনো এবং আনন্দদায়ক শখের কাজগুলোতেও পুনরায় যুক্ত হতে পারেন। এমন সব ক্রিয়েটিভ বা মন ভালো করা কাজে ফিরে যেতে পারেন যা একসময় আপনার মনে প্রচণ্ড আনন্দের জোগান দিত। যেমন—সুন্দর ছবি আঁকা, ডায়েরির পাতায় লেখালেখি করা, বারান্দার টবে বাগান করা, শখের ফটোগ্রাফি করা, নতুন কোনো সুস্বাদু পদ রান্না করা কিংবা একেবারে নতুন কিছু শেখা শুরু করতে পারেন। খুব বেশি পরিশ্রমসাধ্য বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কাজগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। বরং এমন কিছু বেছে নিন যা আপনাকে ভেতর থেকে সতেজ, হালকা এবং চরম স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে সাহায্য করবে।
নিজের সঙ্গে নিজের পুনরায় সংযোগ স্থাপনের জন্য স্ক্রিন এবং ফোন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। নিজের মানসিক শান্তির জন্য অন্তত ৩০ মিনিট সময় একান্তই নিজের মতো করে আলাদা করে রাখুন। অনেক সময় আমরা ভুলবশত মনে করি যে আমরা হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছি, অথচ বাস্তবে আমরা কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তহীন পাতায় আঙুল দিয়ে স্ক্রল করে যাচ্ছি। এই বিশেষ সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ সাইলেন্ট মোডে রাখুন। আপনি পছন্দের কোনো ভালো বই পড়তে পারেন, কানে হেডফোন গুঁজে হালকা গান শুনতে পারেন, বাড়ির শান্ত বারান্দায় চুপচাপ বসে সময় কাটাতে পারেন, কিংবা নিছকই শান্তিতে এক কাপ গরম চা বা সুস্বাদু কফি উপভোগ করতে পারেন। জীবনের প্রতিটি অবসর মুহূর্তকে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে ব্যয় করা মোটেও জরুরি নয়। ২৪ ঘণ্টার বিশাল একটি দিনের মধ্যে যদি মাত্র আধা ঘণ্টা সময় আপনি নিজের জন্য বরাদ্দ রাখতে পারেন, তবে খুব সহজেই নিজের ভালো থাকা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং মানসিক প্রশান্তির সুব্যবস্থা করতে পারবেন। আপনি আজ থেকেই এই চমৎকার অভ্যাসটি শুরু করে দিন; মাত্র ৩০ মিনিট সময় একান্ত নিজের জন্য আলাদা করে নিন এবং এটিকে আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত অংশ করে তুলুন।