রাস্তায় তরুণীদের অজান্তে শ্যুট! যুব কংগ্রেসের ‘চলো দিল্লি’র বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে তোপ দাগল বিজেপি

আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আয়োজিত ‘চলো দিল্লি’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে হাত শিবির। এই রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রচারের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেস (IYC)-এর পোস্ট করা একটি ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে নারীদের পিছু নেওয়া (Stalking) এবং তাঁদের অজান্তে গোপনে ছবি তোলার মতো অপরাধমূলক আচরণকে পরোক্ষভাবে প্রচার ও প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। চতুর্মুখী সমালোচনার ঝড়ে শেষমেশ ব্যাকফুটে গিয়ে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে বিতর্কিত সেই ভিডিওটি মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছে যুব কংগ্রেস।
মাত্র ২০ সেকেন্ডের ওই বিতর্কিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া তিন তরুণীর অজান্তে গোপনে ভিডিও রেকর্ড ও একাধিক ছবি তুলছেন। এরপর নিজের ফোনে সেই ছবিগুলি জুম করে দেখার সময় এক তরুণীর ফোনের স্ক্রিনে ‘চলো দিল্লি’ রামলীলা ময়দান র্যালির পোস্টার ভেসে ওঠে। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠলে অল ইন্ডিয়া ইউথ কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। তিনি পুরো ঘটনার দায় দলের আইটি সেলের ওপর চাপিয়ে জানান যে, নারীদের অজান্তে ছবি তোলা বা পিছু নেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত এবং আইটি সেল কেন এই জাতীয় কন্টেন্ট পোস্ট করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিজেপির জাতীয় নেতা বিষ্ণুবর্ধন রেড্ডি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও স্টকিংকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরছে। এই ভিডিও কংগ্রেসের দেউলিয়া মানসিকতার স্পষ্ট প্রমাণ। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আগামী ১ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে এই মেগা সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগমের দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই মেগা কর্মসূচির প্রচারেই নারী নিরাপত্তার চরম অবমূল্যায়নের অভিযোগে এখন ব্যাকফুটে বিরোধী শিবির।