লিপস্টিকের ভিন্ন শেড আর সিগারেটের ছ্যাঁকা! লখনউয়ের হাইপ্রোফাইল শিবা শর্মা হত্যাকাণ্ডে কোন চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁস?

লখনউয়ের চাঞ্চল্যকর শিবা শর্মা হত্যা মামলায় তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন রহস্যের জাল আরও গভীর হচ্ছে। এই হাইপ্রোফাইল মামলার মূল অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে বর্তমানে পুলিশি জালে থাকলেও, ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল রহস্য এখনও পুরোপুরি উদ্ঘাটন করতে পারেনি লখনউ পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে নিহতের মুখ ও বুকে পাওয়া ভিন্ন ভিন্ন দুটি লিপস্টিকের দাগ এবং আলাদা ফ্লেভারের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। এর পাশাপাশি, শিবা শর্মার হাত-পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার চিহ্ন এবং কোমরে কামড়ের দাগ এই মৃত্যুর ঘটনায় এক অন্য ও নৃশংস কাহিনীর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাগপুর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর শ্রদ্ধা দুবেকে আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাকে, তার বোন রশ্মি এবং ড্রাইভার দানিশকে ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। পরবর্তীতে শ্রদ্ধার প্রাক্তন প্রেমিক আমিরকেও গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের জেরায় শ্রদ্ধা স্বীকার করেছে যে শিবা তার বিশেষ বন্ধু ছিল এবং বুকের লিপস্টিকের দাগ তার নিজেরই। তবে মুখের লিপস্টিকের দাগ এবং শরীরে থাকা অন্যান্য নৃশংস আঘাত ও আঘাতের কারণ নিয়ে সে সম্পূর্ণ মুখে কুলুপ এঁটেছে। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সঠিক মোটিভ খুঁজে বের করতে এবার প্রধান অভিযুক্তদের ফের কাস্টডি রিমান্ডে নিয়ে জেরা করার ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে লখনউ পুলিশ।
এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে গত ৯ অক্টোবর রাতে, যখন লখনউয়ের হযরতগঞ্জ এলাকার অবধ গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তাঁর গায়ে অন্তর্বাস ছাড়া অন্য কোনো পোশাক ছিল না এবং শরীরে ছিল অসংখ্য পুরনো ও নতুন আঘাতের চিহ্ন। যদিও শ্রদ্ধার গৃহপরিচারিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি রান্নাঘরে থাকায় বেডরুমের ভেতরের ঠিক কী ঘটেছিল, তা তিনি সরাসরি দেখেননি তবে বোনসহ দুই নারীর চিৎকার শুনেছিলেন। পুলিশ এখন ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণ এবং অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার জন্য জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।