ভোটে হেরেও কেল্লাফতে! রাজস্থানের এই মহিলাকে ২৫ লাখ নগদ আর রাজকীয় সংবর্ধনা দিল গ্রামবাসী

রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও সম্প্রীতি যে সব কিছুর ঊর্ধ্বে—তা ফের প্রমাণ করে দেখাল রাজস্থানের নাগৌর জেলা। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামান্য ভোটে হেরে যাওয়া এক মহিলা প্রার্থীকে গ্রামবাসী এমন এক অভিনব উপহার ও সম্মান দিলেন, যা দেখে বাকরুদ্ধ পুরো এলাকা। ভোটে মাত্র ১৬২ ভোটে পরাজিত হওয়া ৪৫ বছর বয়সী চিড়ি দেবী ও তাঁর পরিবারের হাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সংগৃহীত ২৫ লক্ষ টাকা তুলে দিলেন গ্রামবাসীরা। শুধু তা-ই নয়, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে ফুলমালা পরিয়ে রাজকীয় সম্মান জানানো হয়।

ঘটনাটি নাগৌর জেলার মুন্ডওয়া পঞ্চায়েত সমিতির ভদৌরা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোড়ি গ্রামের। সাধারণ কৃষক পরিবারের বধূ চিড়ি দেবীর স্বামী হেমারাম রাও এলাকায় অত্যন্ত সমাজসেবী মানুষ হিসেবে পরিচিত। গ্রামের গোশালায় ট্র্যাক্টর দান করা থেকে শুরু করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার মতো বহু সামাজিক কাজের কারণে গ্রামের ৩৬টি সম্প্রদায়ের মানুষ একজোট হয়ে চিড়ি দেবীকে সরপঞ্চ নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছিলেন।

নির্বাচনে চিড়ি দেবী ১,১৫৫টি ভোট পান এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারের বৌমা গিরিজা সান্দু ১,৩১৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হন। সামান্য ১৬২ ভোটে হেরে গেলেও গ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নেন, এই নির্বাচনের কারণে একটি সাধারণ কৃষক পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ পড়তে দেওয়া যাবে না। এরপরেই মোড়ি গ্রামে বিশাল সভা ডেকে ২৫ লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে সরাসরি চিড়ি দেবীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের এই অভূতপূর্ব ভালোবাসায় কেঁদে ফেলেন তাঁর পরিবার। রাজনৈতিক শত্রুতা ভুলে সামাজিক ভাইচারা ও মানুষের আন্তরিকতার এই অনন্য নজির রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।