পর্দার আড়ালে কোন অন্ধকার জগৎ? দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

বাংলাদেশের কওমি ধারার মাদ্রাসাগুলো নিয়ে দেশজুড়ে এক নতুন ও উদ্বেগজনক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একের পর এক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় অভিভাবকদের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় প্রায় দেড় ডজনের মতো যৌন নিপীড়নের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য বলছে, শুধুমাত্র আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেই কমপক্ষে ১৩ জন ছেলে শিশু এই নির্মমতার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, ঢাকার যাত্রাবাড়ির ফল বিক্রেতা আক্কাস আলীর মতো বহু অভিভাবক তাদের একমাত্র সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। যুগের পর যুগ ধরে কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি এই ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও সামাজিক লজ্জা, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের বদনামের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতেন না ভুক্তভোগীরা। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সাজেদুল ইসলাম এবং ফিরোজ করিমের মতো একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিজেদের অতীতের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনছেন। এমনকি ‘আওয়াজডটবিডি’ নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শত শত ভুক্তভোগী তাদের গোপন অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, যেখানে প্রায় ৪৭ শতাংশ ঘটনাই কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারি নজরদারির চরম অভাব এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই এই অপরাধগুলো বারবার ঘটে চলেছে। যদিও হেফাজতে ইসলাম এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলো ছাত্র সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তবে বাস্তবে এর কতখানি প্রয়োগ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীও। সরকারের পক্ষ থেকেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে শিশু সুরক্ষায় এই অন্ধকূপ থেকে কবে মুক্তি মিলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।