হাসপাতালের মেঝেতে বসে পড়াশোনা, মায়ের ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ জয় করে UPSC ক্র্যাক নিখিলের!

অদম্য জেদ, কঠোর পরিশ্রম আর প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্নপূরণের এক অনন্য নজির গড়েছেন নিখিল দ্বিবেদী। ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার সময় হাসপাতালের নির্মম মেঝেতে বসে দিনরাত এক করে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। অসুস্থ মাকে দেওয়া ‘অফিসার’ হওয়ার সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করেছেন নিখিল। সংকল্প ও অধ্যাবসায়ের জোরে UPSC-র সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF) পরীক্ষায় নিখিল অর্জন করেছেন সর্বভারতীয় ৯৪তম স্থান।
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU) থেকে পড়াশোনা শেষ করে নিখিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি গিয়েছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট হওয়ার প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে পৌঁছানোর কয়েকদিনের মধ্যেই খবর পান, তাঁর মায়ের পিত্তথলিতে ক্যানসার ধরা পড়েছে। এক মুহূর্ত দেরি না করে স্বপ্নকে আপাতত স্থগিত রেখে বাড়িতে ফিরে আসেন নিখিল। মায়ের কেমোথেরাপি এবং ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
মায়ের কেমোথেরাপি চলাকালীন হাসপাতালের ঘরের বাইরে মেঝেতে বসেই ল্যাপটপে বিএইচইউ-র নোটস ও অনলাইনের তথ্য পড়তেন নিখিল। ডাক্তারদের অপেক্ষা করার মাঝে বা মায়ের পাশে জেগে থাকার সময়গুলোকেই বানিয়েছিলেন তাঁর মূল পড়ার সময়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার দিল্লি গিয়ে নিজের প্রস্তুতি জোরদার করেন। আরাম ত্যাগ করতে বিছানা ছেড়ে মাদুরে শুতে শুরু করেন এবং ৬-৭ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো বন্ধ করে দেন।
লিখিত পরীক্ষার পর যখন শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা ঘাতক হয়ে সামনে আসে, ঠিক তখনই তাঁর দাদু মারা যান। স্বজন হারানোর চরম শোক বুকে চেপে নিখিল ভোরবেলা দৌড়ের অনুশীলন চালিয়ে যান। প্রাক্তন কনস্টেবল বাবার থেকে ফিটনেসের বিশেষ টিপস নিয়ে তিনি প্রস্তুতি নিখুঁত করেন। দীর্ঘ রক্তজল করা সংগ্রামের পর অবশেষে তিনি সাফল্য স্পর্শ করেন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদের জন্য নির্বাচিত হন। জয়ের খবর পেয়েই প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে অসুস্থ মাকে স্যালুট জানান নিখিল। নিখিলের এই গল্প প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে কঠিনতম বাধা পেরিয়েও জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।