১৯ জনের মৃত্যুর পেছনে কার গাফিলতি? এবার লালবাজারের আতশকাচে ১২ পুলিশকর্মী, মিলবে বিচার?

কলকাতা শহরের বুক কাঁপিয়ে দেওয়া চোরবাগান সর্বজনীনের ভয়াবহ পুজো বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে নিত্যনতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। আনন্দ উৎসবের মাঝে হঠাতই থমকে গিয়েছিল ১৯টি তাজা প্রাণ। বহু পরিবারের আশা-ভরসা নিমেষে শেষ হয়ে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় সন্ধের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মৃতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের। আর এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কার গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট করতে এবার মণ্ডপের মূল শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব করল লালবাজার। আগামী বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের মূল নকশা এবং কাঠামোগত সুরক্ষার বিষয়গুলি নিয়ে তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অন্যদিকে, ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিপর্যয়ের দিন মণ্ডপের সামনে, প্রবেশ ও প্রস্থান পথে মোতায়েন থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে লালবাজার। তাঁদের নাম ধরে আলাদা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সোমবার থেকেই তাঁদের বয়ান রেকর্ড করার কাজ শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জন সাধারণ মানুষকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে তলব করা হয়েছে।

তবে তদন্তের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি। পুলিশ সূত্রের খবর, চোরবাগানের মণ্ডপ ও তার আশেপাশে মোট ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকলেও, তার মধ্যে প্রায় ১৬টি ক্যামেরার কোনো ফুটেজই পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। কীভাবে এই ফুটেজ গায়েব হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে, যারা সিসিটিভি ফুটেজ, স্যোশাল মিডিয়ার ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে। এছাড়া এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও, আগামী সপ্তাহেই যে বিষয়ে শুনানি হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।