কংগ্রেস চাইল ২০০, আমি হলে দিতাম মাত্র ২৫! ইউপি ভোটের আগেই অখিলেশ-রাহুলকে খোঁচা ব্রিজভূষণের!

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনও সময় বাকি থাকলেও, রাজ্য রাজনীতিতে জোট এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে জল্পনা ও পারদ চড়তে শুরু করেছে। সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য জোট ও আসন সমঝোতার গুঞ্জন চলার মধ্যেই কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং। তিনি সাফ জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, লড়াই তত জমে উঠবে এবং ২০২৭ সালের ভোটে আসল রাজনৈতিক মজা দেখতে পাবে দেশবাসী।

রবিবার বিকেলে বিশেষ ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে চেপে ইটাওয়া পুলিশ লাইনে এসে পৌঁছান ব্রিজভূষণ। সেখান থেকে তিনি সরাসরি ক্ষত্রিয় স্বাভিমান মঞ্চ আয়োজিত দশেরার এক বিশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য রাজনীতির নানা ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন এই দাপুটে নেতা।

“কংগ্রেসকে ২৫টির বেশি আসন দিতাম না”: উত্তরপ্রদেশে আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের ২০০টি আসনের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেনা মেজাজে তোপ দাগেন ব্রিজভূষণ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি আমার হাতে থাকত, তবে কংগ্রেসকে আমি বড়জোর ২৫টি আসন দিতাম, তার বেশি একটিও নয়!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এখন সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস— দুই শিবিরের রাজনীতিতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

তবে ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের কৌশল ও রাজনৈতিক সমীকরণ প্রসঙ্গে তিনি ইতিবাচক সুরেই জানান, বর্তমানে রাজ্যের ছোট-বড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই জোরকদমে প্রস্তুতি চালাতে শুরু করেছে। ফলে আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দেখার মতো হবে।

ওয়াইসিকে নিয়ে মন্তব্য ও নির্বাচনী আবহ: সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সম্পর্কেও নিজের মত প্রকাশ করেন ব্রিজভূষণ। ওয়াইসিকে এক জন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ভারতীয় রাজনীতির বর্তমান দৃশ্যপট ও কাশ্মীরের রাজনীতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

দশেরা সমাবেশের মঞ্চ থেকে একদিকে বিরোধী জোটকে নিশানা আর অন্যদিকে ২০২৭ সালের মহারণ নিয়ে তাঁর এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।