পুরোনো গাড়ির বাহ্যিক চাকচিক্যে ভুলছেন? কেনার আগে ৫টি বিষয় না দেখলে চরম ফাঁদে পড়বেন!

সীমিত বাজেটের মধ্যে পছন্দের চারচাকার স্বপ্নপূরণ করতে অনেকেই নতুন গাড়ির পরিবর্তে ব্যবহৃত বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ (Second-hand) গাড়ি কেনার কথা ভাবেন। কম খরচে ভালো মানের একটি গাড়ি পাওয়া গেলে এটি নিঃসন্দেহে একটি লাভজনক ও সাশ্রয়ী বিকল্প। কিন্তু মনে রাখবেন, শুধুমাত্র বাইরের চকচকে রূপ আর ঝকঝকে ফিনিশিং দেখে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কিন্তু চরম বোকামি হতে পারে!
সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই ছাড়া পুরোনো গাড়ি কিনলে পরবর্তীতে তার ইঞ্জিন মেরামত, যন্ত্রাংশ বদল ও রক্ষণাবেক্ষণে পকেট থেকে খসে যেতে পারে মোটা অঙ্কের টাকা। তাই ব্যবহৃত গাড়ি কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
১. সঠিক বাজেট ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ: গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমেই নিজের বাজেট ঠিক করুন এবং বুঝতে চেষ্টা করুন গাড়িটি আপনার দৈনন্দিন ঠিক কী প্রয়োজনে লাগছে। কেবল গাড়ির মূল বিক্রয় মূল্য দেখলেই চলবে না, তার সঙ্গে বিমা (Insurance), নাম পরিবর্তনের খরচ এবং সম্ভাব্য রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যুক্ত করেই মোট বাজেট হিসাব করুন।
২. গাড়ির বডি, রঙ ও দুর্ঘটনার চিহ্ন পরীক্ষা: গাড়ির বহিরাঙ্গন খুব মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করুন। বডিতে কোথাও টোল খাওয়া, মরিচা ধরা বা স্ক্র্যাচ আছে কি না দেখুন। গাড়িটি আগে কখনও বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল কি না বা দুর্ঘটনার দাগ ঢাকতে ওপর থেকে নতুন করে রঙ করা হয়েছে কি না, তা অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে যাচাই করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩. টেস্ট ড্রাইভ ও পারফরম্যান্স যাচাই: গাড়ি পছন্দ হলে অন্তত ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার নিজে চালিয়ে (Test Drive) দেখুন। গাড়ি চালানোর সময় ইঞ্জিনের শব্দ, ব্রেক, ক্লাচ, গিয়ার শিফটিং, সাসপেনশন এবং এসি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না লক্ষ্য করুন। স্টিয়ারিংয়ে কোনও অস্বাভাবিক কম্পন হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখা দরকার।
৪. ওডোমিটার রিডিং ও চাকার অবস্থা দেখে নিন: ব্যবহৃত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কারচুপি হয় ওডোমিটারে (Odometer)। গাড়িটি বাস্তবে কত কিলোমিটার চলেছে, তা অনেক সময় ওডোমিটারের মিটার কমিয়ে টেম্পারিং করা হয়। তাই গাড়ির সার্ভিস হিস্ট্রি (Service History)-র সঙ্গে ওডোমিটারের রিডিং মিলিয়ে নিন। পাশাপাশি গাড়ির টায়ারের অবস্থা এবং এয়ারব্যাগের মতো সুরক্ষামূলক ফিচারগুলি পরীক্ষা করুন।
৫. কাগজপত্র ও আইনি বৈধতা যাচাই: চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখুন। রেজিস্টার বুক (RC Book), বিমার কাগজপত্র, পিইউসি (PUC) সার্টিফিকেট এবং নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) ঠিক আছে কি না তা দেখে নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— গাড়িটির ওপর কোনও ট্রাফিক চালান বা আইনি মামলা ঝুলে রয়েছে কি না, তা সরকারি পোর্টাল থেকে অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া উচিত।