অর্ধনগ্ন অবস্থায় পানিতে লাফ! লখনউয়ের কোটিপতি ব্যবসায়ী হত্যায় কাজের মেয়ের গৃহপরিচারিকার বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবা শর্মার চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় এক বিস্ফোরক মোড় আসলো। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত শ্রদ্ধা দুবে জেলে থাকলেও সে পুলিশি জেরায় মুখ খুলতে নারাজ। তবে এবার পুলিশের হাতে এসেছে এক প্রত্যক্ষদর্শীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বয়ান। শ্রদ্ধার গৃহপরিচারিকাকে জেরা করতেই বেরিয়ে এলো ঘটনার রাতের একাধিক চমকপ্রদ তথ্য।
পুলিশি জেরায় পরিচারিকা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শ্রদ্ধা দুবে ক্রমাগত শিবা শর্মাকে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিল। শ্রদ্ধার সেই চরম নির্যাতন ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়েই অর্ধনগ্ন অবস্থায় শিবা সোজা পানিতে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন বা পালিয়ে যান।
রান্নাঘর থেকে বিকট শব্দ ও তীব্র বাদানুবাদ: শনিবার লখনউ পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল শ্রদ্ধার গৃহপরিচারিকাকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে। ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক ও সময়ক্রম তাঁর কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হয়। পরিচারিকা পুলিশকে জানান, ঘটনার ঠিক মুহূর্তে তিনি মূল ঘরের ভেতরে ছিলেন না, রান্নাঘরে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট শুনতে পান যে ঘরে শ্রদ্ধা ও শিবা শর্মার মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি ও চিৎকার চলছিল।
তিনি আরও জানান, সেই সময় ঘটনাস্থলে শ্রদ্ধা দুবে ও শিবা শর্মা ছাড়াও শ্রদ্ধার বোন রশ্মি এবং তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক দানিশ উপস্থিত ছিলেন। হুট করে এক প্রচণ্ড শব্দ ও চেঁচামেচি শুনে তিনি সতর্ক হন। যদিও পুরো লাফ দেওয়ার ঘটনাটি তিনি নিজের চোখে দেখেননি, তবে শ্রদ্ধার নির্যাতন এবং শিবার প্রাণ বাঁচানোর আকুল চেষ্টার যে আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল, তা তিনি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করেছিলেন।
লখনউ পুলিশ পরিচারিকার এই জবানবন্দিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিচার করছে। পরিচারিকার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা শ্রদ্ধার বোন রশ্মি ও ড্রাইভার দানিশকে হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি জেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে তদন্তকারীরা।