‘আজই কি হামলা?’ ট্রাম্পের এক মন্তব্যে কেঁপে উঠল বিশ্ব, হরমুজ প্রণালীতে চরম যুদ্ধের সঙ্কেত!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণে আবার কি সরাসরি আঘাত হানতে চলেছে আমেরিকা? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম যুদ্ধের উদ্বেগে কাঁপছে বিশ্বরাজনীতি। ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, যে কোনো মুহূর্তে—এমনকি আজ বা কালকের মধ্যেই—ইরানের ওপর ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

ইরানে সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত অথচ চাঞ্চল্যকর উত্তর ছিল—‘হয়তো আগামীকাল’। তবে এর সঙ্গেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণ জিইয়ে রেখে তিনি যোগ করেন, তেহরান যদি একটি বড়সড় শান্তি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়, তবে সংঘাতের পথ এড়ানোও সম্ভব। কিন্তু সেই চুক্তির কঠোর শর্তাবলি ইরান শেষ পর্যন্ত কতটা রক্ষা করবে, তা নিয়ে ট্রাম্পের নিজের বক্তব্যেই স্পষ্ট সংশয় ফুটে উঠেছে।

‘এপিক ফিউরি’র দ্বিতীয় অধ্যায়?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় তাঁর বিধ্বংসী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র কথা টেনে আনেন। ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে এই মেগা-সামরিক অপারেশনের দ্বিতীয় দফাও শুরু করা হতে পারে।

আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের ঝাঁঝ বোঝা যাচ্ছে কূটনৈতিক মহল থেকেও। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে খোলসা করেন যে, সপ্তাহের এই নির্দিষ্ট সময়টাতেই (Weekend) ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলিতে হামলা শুরু হতে পারে। এর ফলে ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের নতুন কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন যুদ্ধ বিশেষজ্ঞরা।

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট ও তেলের বাজারে আগুন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের এক যৌথ বিমান হানার মাধ্যমে এই যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছিল। সেই প্রাথমিক আঘাতেই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সহ বেশ কয়েকজন প্রথম সারির সামরিক আধিকারিক।

পাল্টা পদক্ষেপে ইরানও গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের প্রধান ধমনি ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয় এবং অর্থনৈতিক সংকট প্রবল আকার ধারণ করে।

চুক্তি থেকে পিছিয়ে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অশুভ মেঘ

পরবর্তীকালে সংঘাত কমাতে ১৭ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ১৪ দফার এক শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু ৮ জুলাই ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তিকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। যার এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান পাল্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সমস্ত আলোচনা স্থগিত করে দেয়।

এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুরু থেকেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ উৎখাতের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই পুনরায় সামরিক হামলা চালায়, তবে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে—এমনটাই আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।