“জোর করে অঞ্জলি প্রদান, নাবালিকাকে ধর্ষণের হুমকি!” বাংলায় ৩ খ্রিস্টান পরিবারকে নিগ্রহে সরাসরি অমিত শাহকে চিঠি

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় ধর্মবিশ্বাসের কারণে তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের ওপর চরম নিগ্রহ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষনেতা তথা লোকসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান কে সি বেণুগোপাল।
কী ঘটেছিল চন্দ্রকোনায়? কংগ্রেস নেতার চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে চন্দ্রকোনা থানার পাতলাপুর গ্রামে এই চরম বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার ‘অপরাধে’ তিনটি পরিবারের সদস্যদের টানা তিন দিন ধরে অসহনীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি দুর্গাপুজোর সময়ে তাঁদের দিয়ে জোর করে অঞ্জলি দেওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর পরিবারগুলি পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরতে অস্বীকার করায় আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এক মহিলাকে মাথায় বেধড়ক মারধর করায় তিনি জ্ঞান হারান এবং এক ১৪ বছরের নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো মারাত্মক হুমকি দেওয়া হয়।
সংবিধান ও বাঙালি সংস্কৃতি স্মরণ করিয়ে তোপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সংবিধানের ২৫ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেছেন বেণুগোপাল। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের মৌলিক অধিকার দিয়েছে। কিন্তু চন্দ্রকোনার ঘটনা সেই অধিকার ও সভ্য সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছে।
একইসঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য ও হিন্দু ধর্মের মূল দর্শনের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের এই শীর্ষনেতা লেখেন, “যারা এই ধরনের হিংসাত্মক হামলা চালিয়েছে, তারা না বোঝে হিন্দু ধর্মকে, না চেনে বাংলার সংস্কৃতিকে। বাংলা চিরকাল উৎসবের আনন্দে সবাইকে শামিল করে নিয়েছে। পুজোর আবহে অন্য ধর্মের মানুষের ওপর এই নৃশংস আচরণ গোটা বাঙালি সংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মকেই লজ্জিত করেছে।”
রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক আক্রমণের অভিযোগ: চিঠিতে কে সি বেণুগোপাল আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; চলতি বছরের ১৩ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ৬০টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
চন্দ্রকোনার এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে কংগ্রেস। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।