“জিভে সাপের বিষ নেব, তবুও মমতার কাছে…” ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বিস্ফোরক দাবি মদন মিত্রের!

রাজনীতিতে নিজের অবস্থান বদল এবং বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে আবারও শিরোনামে কামারহাটির বিধায়ক তথা গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মদন মিত্র। ববি হাকিম এবং অরূপ রায়কে আশ্বস্ত করে তিনি মন্তব্য করেন, তাঁর জিভে সাপের বিষ থাকলেও দলের ক্ষতি করবেন না। তবে একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক কঠোর মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে একরকম সুর চড়ালেও, রাতে সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান মদন মিত্র। ফেসবুক লাইভে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি মৃত্যুবরণ করব, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করব না, ওঁর কাছে আমার লাশ ফিরবে।”

মদনের নিশানায় ঔদ্ধত্য ও অপত্য স্নেহ: দলের এই বর্তমান অবস্থার জন্য সরাসরি নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মদন মিত্র। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, দলের এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মমতার ঔদ্ধত্য, অহংকার এবং অভিষেকের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত অপত্য স্নেহ। মদন বলেন, “আশ্চর্যের বিষয়, ২১-এ শুভেন্দু যেদিন দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন, সেদিনও মমতা বুঝতে পারলেন না যে নারকেলের ভেতরের শাঁসের জলটাই আসলে শুভেন্দু অধিকারী। শুধুমাত্র অভিষেকের প্রতি অপত্য স্নেহই এই দলের ধ্বংসের জন্য দায়ী।”

দুপুরের সুর বনাম রাতের ইউ-টার্ন: এর আগে শুক্রবার দুপুরেই মদন মিত্র দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হলেন আল্টিমেট তৃণমূল। ইন্ডি জোটের অন্য দলগুলোকে ডাকার পাশাপাশি মমতা তাঁদেরও একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানাতে পারতেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

তবে মদনের এই মন্তব্যের পরেই জলঘোলা শুরু হয়। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অরূপ রায় এবং দলের নেতা ফিরহাদ হাকিম মদনের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেন। অরূপ রায় জানিয়ে দেন, আসন্ন পুরভোটে এককভাবেই লড়বে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। ফিরহাদ হাকিমও সাফ জানিয়ে দেন, কে কোথায় কী বলছেন, তার কোনো দায় তাঁদের দল নেবে না। এর ঠিক পরেই রাতে ফেসবুক লাইভে এসে একেবারে ভিন্ন সুরে নিজের বক্তব্য রাখেন মদন মিত্র।

রাজনীতির মাঠে মদন মিত্রের এই ঘনঘন অবস্থান বদল এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্য যে আগামী দিনে শাসকশিবিরের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।