এক মাসে দুটি প্রাণ! সান্দাকফুর দুর্গম পাহাড়ি সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে কোন মরণফাঁদ?

পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন সান্দাকফু ও তার সংলগ্ন দুর্গম এলাকায়। কিন্তু মেঘে ঢাকা এই পাহাড়ি পথে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুব্যবস্থা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে ফের এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে সান্দাকফু অঞ্চলে দ্বিতীয় এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় পর্যটন মহল ও স্থানীয় মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে? প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসাতের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি বুবাই পাল তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৮ অক্টোবর মানেভঞ্জনে পৌঁছন। এরপর ১৯ অক্টোবর সান্দাকফুতে রাত কাটিয়ে ২০ অক্টোবর তাঁরা টুমলিঙের একটি হোমস্টেতে ওঠেন। ওই দিন রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে বিশ্রামে যাওয়ার কিছু সময় পরই আচমকা তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বুবাইবাবুর।
মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু হয়। ‘সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সহায়তায় দ্রুত তাঁকে প্রথমে মানেভঞ্জন এবং পরে সুখিয়াপোখরি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর মৃতদেহ দার্জিলিং সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জরুরি পরিষেবা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন: এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি চিকিৎসা পরিবহণ ও পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংগঠনগুলি। সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন প্রধান জানিয়েছেন, পর্যটনের মরসুমে অধিকাংশ ল্যান্ড রোভার ও গাড়ি আগে থেকেই বুকিং করা থাকে। ফলে রাতের বেলা হঠাৎ কোনো পর্যটক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছে সংগঠনটি। সান্দাকফু ও তার আশপাশের দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নির্দিষ্ট একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পর্যটকদের জীবন বাঁচাতে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যাতায়াতের সুব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।