ওড়িশা নাকি অন্ধ্রপ্রদেশ? আমেরিকার প্রলয়ঙ্করী মডেলের মাঝেই বঙ্গোপসাগরে নতুন সাইক্লোনের বিরাট আপডেট!

অক্টোবরের শেষেই কি ফের দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে? থাইল্যান্ড উপকূল থেকে এগিয়ে আসা একটি ঘূর্ণাবর্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুজোর আবহে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে নতুন নিম্নচাপ, যা পরবর্তীতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নিতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য ঝড়ের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য আছড়ে পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

আমেরিকা ও ইউরোপীয় মডেলের দ্বৈরথ

সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে দুই প্রধান আন্তর্জাতিক মডেল পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • আমেরিকার GFS মডেল: এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে এবং ২৭ অক্টোবর রাতের দিকে ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।

  • ইউরোপের ECMWF মডেল: এই মডেলের দাবি, সিস্টেমটি ২৬ অক্টোবরের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছাকাছি আছড়ে পড়তে পারে।

দুই মডেলের সময়ের ব্যবধান ও ল্যান্ডফলের জায়গা নিয়ে ফারাক থাকায় কোন উপকূল সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়বে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

কী জানাচ্ছে মৌসম ভবন?

বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মডেলগুলি সাইক্লোনের সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে বললেও, ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) আপাতত নিম্নচাপ তৈরির প্রক্রিয়ার ওপরই কড়া নজর রাখছে। নিম্নচাপটি পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পরেই এর প্রকৃত শক্তি, গতিবেগ এবং অভিমুখ সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র মিলবে। তাই এই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি বুলেটিনের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য জুড়ে বর্তমান আবহাওয়া কেমন?

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে জল্পনা চললেও আপাতত স্বস্তির খবর রয়েছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য। শনিবার বেশিরভাগ জেলাতেই পরিষ্কার আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় দিনেরবেলা রোদ ঝলমলে আবহাওয়া এবং রাতের দিকে হালকা ঠান্ডার আমেজ মিলবে। কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এর বিপরীত ছবি দেখা যেতে পারে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

পরিস্থিতির ওপর অবিরাম নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। সম্ভাব্য সাইক্লোনের চূড়ান্ত গতিপ্রকৃতি জানতে এখন পরবর্তী সরকারি আপডেটের অপেক্ষাতেই দিন গুনছে বঙ্গবাসী।