‘মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে মমতাকে!’ কাকদ্বীপের সভা থেকে সরাসরি হুংকার শুভেন্দুর

কাকদ্বীপের জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও কড়া অবস্থান নেন তিনি।
‘সনাতনের শক্তি এটাই!’
কাকদ্বীপের সভা থেকে পুরোনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০২৫-এ কাকদ্বীপের সূর্যনগরে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। যিনি তুলেছিলেন, সেই আইপিএস অফিসারকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। মা কালীর অপমান আমরা মানব না। আর যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মা কালী প্রিজন ভ্যানে উঠেছিল, ওই মুখ্যমন্ত্রীকে মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। এটাই সনাতনের শক্তি। এটাই মা দুর্গা-মা কালীর শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বলতাম, চিরদিন কারো সমান যায় না। সেদিন যারা আমাকে পাথর ছুঁড়েছিল, কালো পতাকা দেখিয়েছিল, আজ তারা বলছে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রী, আপনার জন্য আমরা অপেক্ষা করে বসে আছি। এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে আপনারা শেষ কথা বলেন।”
শরণার্থীদের দ্রুত CAA সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ
এদিন কাকদ্বীপের সভা থেকে শরণার্থীদের অধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে জোরালো মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হঠানো হলেও বাংলাদেশ থেকে যাঁরা প্রাণ ও ধর্ম বাঁচাতে ভারতে এসেছেন, তাঁরা আদতে শরণার্থী।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের SDO-কে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “অতি দ্রুত ওই শরণার্থীদের CAA সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে হবে। আমি ১০ ডিসেম্বরের পরে সাগরে আসছি সাগর মেলার প্রস্তুতি দেখতে, আর ১০ জানুয়ারি আসছি সাগর মেলার উদ্বোধন করতে। তার আগে সমস্ত শরণার্থী যাতে CAA সার্টিফিকেট পান, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব DM এবং SDO-কে নিতে হবে। স্বরাষ্ট্রসচিব ম্যাডাম, বিষয়টি আপনি দেখে নেবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, সার্টিফিকেট পাওয়ার পর তাঁরা প্রত্যেকেই তফসিলি জাতি (SC) হিসেবে স্বীকৃত হবেন এবং আগামী জানুয়ারি মাসেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাষ্ট্রবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন তো? যারা দেশের ভিতরে ও রাজ্যের ভিতরে অশান্তি লাগাতে চায়, রাষ্ট্রবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। কোনও মাওবাদী, জঙ্গি, জেহাদি, কোনও আরশোলা বা ছাড়পোকা যাতে ভারতের ক্ষতি করতে না পারে, তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের। সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ থাকবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।”