দশমীর সকালে হাসপাতাল থেকে গায়েব প্রবীণ রোগী! হাতে স্যালাইনের চ্যানেল নিয়েই কোথায় গেলেন সন্তোষবাবু?

উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দশমীর সকালে জ্বর ও ডায়ারিয়ার মতো অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৪ বছর বয়সি এক প্রবীণ রোগী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। নিখোঁজ ওই বৃদ্ধের নাম সন্তোষ দাস, যিনি উত্তরপাড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, গত দুই দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হচ্ছিল এবং শুক্রবার বিকেলেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক তার আগেই এই আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ সন্তোষ দাসের দেখাশোনার জন্য দুই ছেলে নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতেন এবং রোগীর যত্নের জন্য একজন আয়াক্রান্ত কর্মীও রাখা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সকাল দশটা থেকে হঠাৎ করেই তাঁর আর কোনো খোঁজ মিলছিল না। এরপর শনিবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল চত্বর বা আশপাশে তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন ছোট ছেলে বরুণ দাসসহ অন্যান্য পরিজনরা।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, যখন তাঁদের হাসপাতালে তলব করা হয়, তখনও বৃদ্ধের হাতে স্যালাইনের চ্যানেল লাগানো ছিল। এমন অবস্থায় একজন অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষ কীভাবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলেন বা নিখোঁজ হলেন, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার। হাসপাতালের চরম গাফিলতি এবং উদাসীনতার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিজনরা। হাসপাতাল চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত উত্তরপাড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ বৃদ্ধের ছবিসহ পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

এই মর্মে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, উত্তরপাড়া থানায় একটি লিখিত নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে। নিখোঁজ বৃদ্ধের ছবি ও বিবরণ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, হাসপাতালের সুপার তাঁকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টতই জানান যে, সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। কীভাবে ওই রোগী নজরদারি এড়িয়ে হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকেও পুলিশকে সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে।

ইটিভি ভারতের পক্ষ থেকে হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ রোগীর ছেলে বরুণ দাস ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, শুক্রবার সকাল পৌনে দশটা নাগাদ তাঁকে হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয় এবং জানানো হয় বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর থেকেই তাঁরা হন্যে হয়ে বাবাকে খুঁজছেন। তিনি আরও জানান যে, হাসপাতালের সুপার ও কতৃপক্ষকে এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে। অবিলম্বে তাঁর বাবাকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বড়োসর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত সন্তোষ দাসের সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে তাঁর পরিবার।