“আমি না থাকলে ভারত-পাকিস্তান মুছে যেত! নোবেল না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প”

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত ও যুদ্ধ থামানোর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিলেন। আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্লোরিডার এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাঁর কঠোর বাণিজ্যিক হুঙ্কার এবং শুল্কের হুমকির ফলেই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেমেছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ফ্লোরিডার জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাঁর কার্যকালে তিনি বিশ্বজুড়ে মোট আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, “ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ থামিয়েছি—দু’টি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র, তাদের সংঘাতে দাঁড়ি টেনেছি। এই কাজটি আমি সম্পন্ন করেছি সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যকে হাতিয়ার করে।”

নিজের কূটনৈতিক কৌশলের কথা ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি দুই দেশের নেতৃত্বকেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যদি এই সংঘাতে লিপ্ত থাকে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি দুই দেশের ওপরই আড়াইশো শতাংশ বা ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া হারে শুল্ক চাপানোর কড়া হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে তারা কোনোভাবেই আমেরিকার বাজারে ব্যবসা চালিয়ে লাভবান হতে না পারে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়ে দুই দেশই হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তারা গোলাগুলি বন্ধ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরে আসে।

বক্তব্যের মাঝেই নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ফের একবার উগরে দেন ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে এতগুলো যুদ্ধ ও রক্তক্ষয় থামানোর পরও কেন তাঁকে এই prestigious পুরস্কার দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাম্পের আক্ষেপ, “আমি কি নোবেল পেয়েছি? না, পাইনি।”

অবশ্য ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব ট্রাম্প একা দাবি করছেন, এমনটি নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি একই দাবি করেছেন। যদিও ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে বরাবরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বারবারই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন বা সমঝোতা সম্পূর্ণভাবেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে। এখানে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশ ছিল না। ভারতের এই স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে একমাত্র পাকিস্তান বারবার ট্রাম্পের এই দাবিকে এক প্রকার সমর্থন বা সিলমোহর দিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল। গত বছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালায় ভারতীয় সেনা। ৭ মে থেকে শুরু হওয়া সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই তীব্র সামরিক অভিযানের মুখে পাকিস্তান কোণঠাসা হয়ে পড়ে এবং অবশেষে ১০ মে সেই সামরিক সংঘাতে সাময়িক ছেদ পড়েছিল। ট্রাম্পের দাবি এবং ভারতের প্রকৃত কূটনৈতিক অবস্থান—উভয় দিক থেকেই এই সংঘাতের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।