ত্রিপুরার যুবককে ‘চীনা’ বলে চরম বিপাকে ইউটিউবার! ‘প্র্যাঙ্ক’ বলতেই সোজা শ্রীঘরে অভিযুক্ত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ পাওয়ার নেশায় বর্ণবিদ্বেষী ও জাতিগত আক্রমণের অভিযোগে ফেঁসে গেলেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আমির শওকিন (Amir Shoukin)। ত্রিপুরার এক আদিবাসী যুবককে রাস্তায় হেনস্থা করে তাঁকে ‘চীনা’ বলে কটূক্তি করার অপরাধে দিল্লি পুলিশ তাঁকে করোল বাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার তিস হাজারি আদালত অভিযুক্তকে একদিনের বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আপত্তিকর ভিডিও আপলোড করেন আমির শওকিন। ত্রিপুরার গোমতী জেলার বাসিন্দা ওই আদিবাসী যুবককে প্রকাশ্য রাস্তায় আটকে তাঁর চেহারা ও পরিচয় নিয়ে চরম উপহাস করেন তিনি। ভিডিওয় ওই যুবককে ‘চীনা’ বলে সম্বোধন করার পাশাপাশি তাঁর চেহারার সঙ্গে পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের তুলনা টানেন অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, ‘ত্রিপুরা’ রাজ্যটির নাম নিয়েও বিদ্রূপ করা হয় এবং ওই যুবকের সঙ্গে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কড়া বার্তা
ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। খোদ কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোচ্চার হন এবং পুলিশকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই প্রতিবাদের পরেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে দিল্লি পুলিশ। সদর বাজার থানায় দায়ের হওয়া নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে করোল বাগ থেকে আমির শওকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের আগে সাফাই ও আদালতের নির্দেশ
গ্রেপ্তারের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে গোটা ঘটনাটিকে একটি ‘পরিকল্পিত রসিকতা’ বলে দাবি করে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন আমির এবং প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও, তিস হাজারি আদালত সেই আর্জি খারিজ করে তাঁকে একদিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।