চিনির দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ার আগেই বড় পদক্ষেপ মোদী সরকারের! ইথানল নীতিতে এল বিরাট পরিবর্তন

মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের মতো দেশের প্রধান চিনি উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মরশুমে চিনি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বাজারে চিনির সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাওয়ার তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলের বাজেট রক্ষা করতে এবং চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে ইথানল নীতিতে এক যুগান্তকারী ও বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারের নতুন নীতি ও মূল বিষয়গুলি:
উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা: মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের মতো রাজ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে আখ চাষ ও চিনি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ: বাজারে চিনির ঘাটতি এড়াতে এবং সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে দাম রাখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।
ইথানল নীতিতে বড় বদল: চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি নীতিতে বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে।
কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে ইথানল উৎপাদনে?
রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলি ২০২৬-২৭ সরবরাহ বছরের জন্য পেট্রোলের সাথে ইথানল মিশ্রণের সর্বশেষ ক্রয় দরপত্রে এক বড় নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নতুন টেন্ডার অনুযায়ী, আখের রস, চিনির শরবত এবং বি-হেভি মোলাসেস (B-heavy molasses) থেকে উৎপাদিত ইথানলকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ২০২৬-২৭ ইথানল সরবরাহ বর্ষের জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনির প্রত্যক্ষ ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।
দেশে চিনির পর্যাপ্ত জোগান বজায় রেখে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (Ethanol Blending Programme) দেশব্যাপী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর মাধ্যমে জারি করা এই দরপত্রে প্রায় ১,১০০ কোটি লিটার ইথানল ক্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আগামী নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে।
কোন বিকল্প উপাদানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে?
পেট্রোল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং যানবাহন থেকে কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যেই মূলত শস্য ও আখ ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন টেন্ডার নথিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে মূলত ভুট্টা, ভাঙা চাল, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র সংরক্ষিত উদ্বৃত্ত চাল এবং সি-হেভি মোলাসেস (C-heavy molasses) থেকেই ইথানল সংগ্রহ করা হবে।
পাশাপাশি, ভুট্টা থেকে উৎপাদিত ইথানলের ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রতি লিটারে ৭১.৮৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৮.৮৬ টাকা করা হয়েছে। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ বাজারে চিনির অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।