‘মোদী ভোট চুরি করেন, শাহ পরিচালনা করেন!’ গোয়ায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দেশের রাজনৈতিক মহলে ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার গোয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মতো অত্যন্ত গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। কংগ্রেসের ‘গয় রাখোঁ যাত্রা’য় অংশ নিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভোট চুরির গোটা নীলনকশা তৈরি করেন প্রধানমন্ত্রী, আর তা সফলভাবে পরিচালনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেন মামলা করা হয় না? প্রশ্ন রাহুলের

গোয়ার মারগাঁওয়ে কংগ্রেসের এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধী আক্রমণ শানান আইনি ব্যবস্থা ও শাসকদলের বিরুদ্ধেও। নিজের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে ৪৫টিরও বেশি মানহানি মামলা রয়েছে। অথচ তিনি প্রকাশ্যমঞ্চ থেকে যখনই নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোট চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মানহানির মামলা করার সাহস দেখায় না।

এর ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতার দাবি, এই অভিযোগ নিয়ে যদি আইনি লড়াই বা বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে তা এক বিরাট আইনি লড়াইয়ে রূপ নেবে এবং শাসকপক্ষ বড় বিপাকে পড়বে। সেই কারণেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে ভয় পায় বিরোধীরা। যদিও তাঁর এই বিস্ফোরক দাবির পক্ষে তিনি ওই জনসভায় নির্দিষ্ট বা প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি।

গোয়ার ‘গয় রাখোঁ যাত্রা’য় রাহুল

রবিবার দুপুরে ডাবোলিম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর গোয়ার মারগাঁওয়ে কংগ্রেসের পূর্বনির্ধারিত ‘গয় রাখোঁ যাত্রা’য় যোগ দেন রাহুল গান্ধী। দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে প্রায় দু’কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মিছিলে অংশ নেন তিনি। এরপর মারগাঁও ক্রিকেট ক্লাবের মাঠে একটি জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ছুটির দিনে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।