মুখ চেপে ধরা বা গায়ে হাত দেওয়া আপত্তিকর, কিন্তু ধর্ষণচেষ্টা নয়! পাটনা হাইকোর্টের রায়ে শোরগোল

মহিলার মুখ চেপে ধরা কিংবা তাঁর গায়ের ওপর শুয়ে পড়া অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপরাধমূলক আচরণ সন্দেহ নেই, কিন্তু এর ভিত্তিতে সরাসরি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape)-র অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই চাঞ্চল্যকর ও কড়া পর্যবেক্ষণ পেশ করল পাটনা হাইকোর্ট। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় সামনে আসতেই দেশজুড়ে আইনি মহলে নতুন করে বিতর্ক ও চর্চা শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে পাটনা হাইকোর্ট। সেদিনের অভিযোগে বলা হয়েছিল, এক বিধবা মহিলা যখন তাঁর সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন, সেই সুযোগে অভিযুক্ত ঘরে ঢুকে ঘরের আলো নিভিয়ে দেয় এবং মহিলার শরীরের ওপর শুয়ে পড়ে মুখ চেপে ধরে। পরবর্তীতে মহিলার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই ব্যক্তিকে। ২০১৩ সালে বিচারক ওই ব্যক্তিকে ৪ বছরের জেলের সাজা শুনিয়েছিলেন।
কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল শেষে পাটনা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধু গায়ের ওপর শুয়ে পড়া বা মুখ চেপে ধরার মতো ঘটনাকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যায় না। এই ধরনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে এমন জোরালো প্রমাণ থাকা দরকার, যা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধটি ঘটানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন।
এই যুক্তির ভিত্তিতেই আদালত অভিযুক্তের ৪ বছরের জেলের সাজা কমিয়ে ইতিমধ্যে তিনি যত দিন কারাবাস করেছেন, সেই সময়টুকুই তাঁর শাস্তি হিসেবে বহাল রেখেছে। ২০১০ সালের পুরোনো এই মামলার রায় ঘিরে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।