“১০ অক্টোবর রক্তে ভেসেছে কিং খালিদ বিমানবন্দর!” হুতির ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সামনে আসা বিস্ফোরক ও রোমহর্ষক দৃশ্যগুলিতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে একের পর এক রকেট ও তোপের গোলায় চারপাশ তছনছ হয়ে যাচ্ছে, আর প্রাণভয়ে ছুটে চলা গাড়িগুলো নিমেষে ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এই ধ্বংসলীলার চাঞ্চল্যকর ভিজ্যুয়াল প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে তারা সৌদি সমর্থিত সামরিক শক্তিকে কোণঠাসা করতে পূর্ণ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এক অভাবনীয় ও বড়সড় স্বীকারোক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, হুতিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক আক্রমণে তাদের পক্ষে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, কেবল চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনের মধ্যেই রিয়াদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে মোট ২০টি তীব্র আক্রমণ চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়মানুযায়ী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও এই প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দরটিকে লাগাতার টার্গেট করা হয়। হুতিরা এই হামলায় ১০টি ড্রোন, ৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ৪টি ক্রুজ মিসাইল এবং ২টি রহস্যজনক প্রজেক্টাইল ব্যবহার করেছে। গত ১ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৭ জন নিরীহ মানুষ।
আক্রমণের এই খতিয়ানে দেখা গেছে, গত ৭ অক্টোবর ১ জনের মৃত্যু ও ৮ জন আহত হন; ৮ অক্টোবর ৩ জনের মৃত্যু ও ৫ জন আহত হন; এবং সবথেকে বড় রক্তক্ষয়ী হামলাটি ঘটে ১০ অক্টোবর, যে দিনটিতে ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং ৩০০-র বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। এরপর ১১ অক্টোবর বিমানবন্দরটির ৩ নম্বর টার্মিনালে ফের হামলা হলে আরও ১ জনের প্রাণহানি ও ১১ জন আহত হন। এই রক্তক্ষয়ী ধারাবাহিকতার জেরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন’ অনুযায়ী যখন সৌদি আরব তেল-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই এই রক্তক্ষয় ও সামরিক অস্থিতিশীলতা নতুন বড় চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে। জবাবে সৌদি জোটও পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে হুতিদের ১২৭টি গোপন অস্ত্রাগার ও লঞ্চ প্যাড ধ্বংস করার দাবি করেছে।