মাঠে সবসময় হাসি-খুশি থাকা চাহালের অন্দরে লুকিয়ে ছিল কোন নরকযন্ত্রণা? জানলে শিউরে উঠবেন!

ভারতের অন্যতম সফল ও রেকর্ডধারী লেগ-স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল তাঁর বর্ণাঢ্য ক্রিকেট কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক খতিয়ান তুলে ধরেছেন। জনপ্রিয় প্রাক্তনী তথা ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথনে চাহাল প্রথমবারের মতো তাঁর জীবনের অন্ধকার অধ্যায়—অতিরিক্ত মদের নেশা, বিবাহবিচ্ছেদ, মানসিক অবসাদ এবং জনসমক্ষে তীব্র ট্রোলের মুখোমুখি হওয়ার নির্মম বাস্তবতাকে সবার সামনে এনেছেন। ক্রিকেট মাঠের বাইরে একজন তারকার ব্যক্তিগত লড়াই কতটা মর্মান্তিক হতে পারে, তা চাহালের এই সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পডকাস্ট চলাকালীন আকাশ চোপড়া যখন চাহালকে প্রশ্ন করেন যে, সবসময় মাঠে সবাইকে হাসিখুশি রাখা এবং চনমনে মেজাজে থাকা একজন মানুষ যখন নিজের ব্যক্তিগত জীবনে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যান, তখন সেই মানসিক আঘাত কতটা গভীর হয়? এর জবাবে চাহাল জানান যে তাঁর জীবনের কঠিনতম সময়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যায়, তখন তিনি নিজেই ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পর তিনি বুঝতে পারেন যে মদের নেশা তাঁর জীবনকে গ্রাস করছে। এরপর তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে সোজা রিহ্যাব সেন্টারে চলে যান এবং সেখানে টানা ২৬ দিন কাটিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে চাহাল জানান যে ২০১১ সালে আইপিএলে পা রাখার পর থেকেই তাঁর জীবনে নানা ওঠানামা শুরু হয়েছিল। কিংবদন্তি ক্রিকেটার এ বি ডি ভিলিয়ার্সের দেওয়া জীবনের ভারসাম্য সংক্রান্ত পরামর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁর মানসিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই পথ চলতে থাকলে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস—অর্থাৎ ক্রিকেটকেই চিরতরে হারিয়ে ফেলবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। রিহ্যাব থেকে ফেরার পর নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন তিনি। বর্তমান আইপিএল মরসুমে তাঁর জিম সেশন, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস এবং সামগ্রিক ফিটনেস দেখে মনে হচ্ছে যেন তিনি তাঁর বয়সের চেয়ে অনেক বেশি তরতাজা ও ফিট হয়ে ফিরেছেন।

জনসমক্ষে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মুখ খুলে চাহাল বলেন যে পাবলিক ফিগার হওয়ার কারণে তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনাই ট্রোলারদের খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যার জেরে তাঁর খেলায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে তাঁর তীব্র এংজাইটি এবং প্যানিক অ্যাটাক হতে শুরু করে। সেই কঠিন দিনে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন যে প্যানিক অ্যাটাকের সময় তাঁর মুখ ও ঠোঁট এমনভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যেত যে তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারতেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার কটূক্তি এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরেন। পঞ্জাব কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন তাঁকে ১৮ কোটি টাকার বিশাল মূল্যে দলে নেয়, তখন দলের আস্থার মর্যাদা রাখতে তিনি সমস্ত প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার পণ করেন।