অতিরিক্ত গরম চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে? যে মারাত্মক বিপদের মুখে পড়ছেন, জানলে আজই ছাড়বেন!

অনেকেরই কাপে ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি ঢালার সঙ্গেই তা চুমুক দিয়ে খাওয়ার বদভ্যাস থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই সামান্য অভ্যাসই আপনার শরীরে ডেকে আনতে পারে এক মারণ রোগ? সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্য গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী সমীক্ষায় চা ও কফির উচ্চ তাপমাত্রা ঘিরে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং সতর্কবার্তা দেওয়া তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গবেষকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত গরম পানীয় বা লিকুইড সেবনের ফলে খাদ্যনালী বা এসোফেগাসের ক্যানসারের (Esophageal Cancer) ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চালানো এক ব্যাপক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত গরম চা বা কফি পান করেন, তাঁদের মধ্যে এসোফেজিয়াল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার মতো মারাত্মক ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি থাকে। যখন অত্যন্ত উত্তপ্ত কোনো পানীয় আমাদের ফুড পাইপ দিয়ে পাকস্থলীর দিকে নামতে থাকে, তখন তার অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে খাদ্যনালীর অভ্যন্তরীণ কোষগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই তাপীয় বা থার্মাল ক্ষতির (Thermal Damage) ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, যা পরবর্তীকালে প্রাণঘাতী ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে বিপদটি মূলত চা বা কফির উপাদানের কারণে নয়, বরং তার অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলেই ঘটে থাকে। যাঁরা দিনে ছয় বা তার বেশি কাপ অত্যন্ত গরম পানীয় পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি মাত্রায় দেখা দেয়। তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই, কারণ সামগ্রিকভাবে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখনও তুলনামূলকভাবে কম। তবুও সুরক্ষার স্বার্থে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো গরম পানীয় পানের আগে তা কিছু সময় রেখে সামান্য ঠান্ডা বা गुनगुना করে নেওয়া উচিত। চা বা কফি পান করার সময় যদি ঠোঁটে বা জিভে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে যে তার তাপমাত্রা নিরাপদ সীমার বাইরে রয়েছে। একটু সচেতনতা এবং সামান্য অভ্যাসের বদলই আপনাকে এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পারে।