“সর্দি-জ্বর থেকেই মৃত্যু!” রাষ্ট্রপতির দত্তকপ্রাপ্ত বইগা সম্প্রদায়ের শিশুদের করুণ পরিণতিতে তোলপাড় রাজ্য

ছত্তিশগড়ের কবীরধাম জেলায় গত পাঁচ মাস ধরে এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত বইগা সম্প্রদায়ের পাঁচজন শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কেবল স্বাস্থ্য আধিকারিকরাই নন, গোটা জেলা প্রশাসনই চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী এলাকার অন্তর্গত কবীরধাম জেলার বোদলা ব্লকের নন্দি কুমান গ্রামে এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে। বিশেষ করে উল্লেখ্য, ‘বইগা’ একটি অত্যন্ত বিপন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় হওয়ায় তাঁদের ‘রাষ্ট্রপতির দত্তকপ্রাপ্ত সন্তান’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। এত কম সময়ের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি শিশু মৃত্যুর নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা খুঁজে বের করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আনন্দ তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্য দফতর এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। খবর পাওয়ার পরেই আমরা ওই গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছি। বর্তমানে অপুষ্টিতে ভোগা ১৫ জন অসুস্থ শিশুকে স্পেশাল কেয়ারের জন্য নিউট্রিশন রিহ্যাবিলিটিশন সেন্টারে (এনআরসি) ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।” প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করানোর ফলেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে। অঙ্গনওয়ারি কর্মীদের মাধ্যমে শিশুদের হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা হলেও অনেক সময় বাবা-মায়েদের অনীহার কারণে তা সম্ভব হয় না বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। মৃত শিশুদের পরিবারের শোক এখনও কাটেনি। সন্তানহারা এক বাবা রূপ সিং জানান, তাঁর সন্তান পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর মারা যায়, কিন্তু ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটল তা তাঁদের বোধগম্য নয়। স্থানীয় আদিবাসী নেতা কামু বইগার অভিযোগ, “পাঁচ মাসে বইগা সম্প্রদায়ের পাঁচ শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাঝেমধ্যে দু-চারটে স্বাস্থ্য শিবির করে কোনো লাভ হয় না। সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা।” তাঁর মতে, সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য শিবিরগুলিতে সম্প্রদায়ের প্রধানকে যুক্ত করা উচিত ছিল, যাতে তাঁরা স্থানীয় মাতৃভাষায় সাধারণ মানুষকে সহজে বোঝাতে পারতেন।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের ভূমিকা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা মহেশ চন্দ্রবংশী শোকার্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে জানান, পরিবারের দাবি অনুযায়ী সামান্য সর্দি-জ্বরেই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। এই অবহেলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর ক্ষোভ, এই বিপদের দিনেও শাসক দলের কোনো প্রতিনিধি বা বিজেপি নেতা একবারের জন্যেও শোকার্ত পরিবারগুলির খোঁজ নিতে আসেননি। সবমিলিয়ে, বিপন্ন আদিবাসী শিশুদের এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, সচেতনতা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।