কিংবদন্তি লোকশিল্পী স্বপন বসুর মেয়ের প্রেমে মজেছে নেটপাড়া! মুম্বইয়ে থেকে দুর্গাপুজোয় কী কাণ্ড ঘটান শিমলি বসু?

প্রখ্যাত বাঙালি লোকসঙ্গীত শিল্পী স্বপন বসু ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সোহিনী বসুর কন্যা তথা বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী শিমলি বসু আজ নিজের গুণের জাদুতে বিনোদন দুনিয়ায় এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া লোকগানের ঐতিহ্যকে বুকে নিয়ে তিনি বাংলা গান, থিয়েটার এবং জ্যাজ সঙ্গীতের মেলবন্ধনে নতুন প্রজন্মকে মাতিয়ে রেখেছেন। মুম্বইয়ের ব্যস্ত কর্মজীবন সামলে পুজো এলেই কীভাবে শিকড়ের টানে নস্টালজিক হয়ে পড়েন এই তারকা, তা নিয়ে সম্প্রতি এক খোলামেলা আড্ডায় নানা অজানা তথ্য শেয়ার করেছেন তিনি।
মুম্বইয়ের নামী ‘দ্য ড্রামা স্কুল মুম্বাই’ (DSM) থেকে নাট্যকলায় পেশাদার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর থেকেই মুম্বই থিয়েটার সার্কিটে নিয়মিত কাজ করছেন শিমলি। পৃথ্বী থিয়েটারের মতো ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে ‘ডেড পোয়েটস সোসাইটি’-সহ একাধিক আলোচিত নাটকে নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তবে পুজোর দিনগুলোয় কাজের হাজার ব্যস্ততা থাকলেও নিয়ম করে সব শিডিউল বদলে ফেলেন তিনি। বিশেষ করে অষ্টমীর সকালে শিমলির কাছে পুজো মানেই একেবারে অন্য আবেগ। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাজের জায়গায় তিনি আগেই পরিষ্কার করে বলে রাখেন যে অষ্টমীর প্রথম ভাগে তাঁকে যেন কোনো কাজে বিরক্ত না করা হয়। কারণ ওই সময়ে তাঁর অঞ্জলি দেওয়া এবং ভোগ খাওয়ার পবিত্র নিয়মে কোনোদিন ছেদ পড়ে না।
শুধু বাংলা গান বা নাটকই নয়, সম্প্রতি বিশ্বমঞ্চেও দারুণ নাম কামিয়েছেন এই তরুণী শিল্পী। প্রখ্যাত নাট্যকার পূর্বা নরেশের লেখা এবং পরিচালনায় রুশ লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির ১৮৪৮ সালের ক্ল্যাসিক ট্রাজিক-রোমান্টিক উপন্যাস ‘হোয়াইট নাইটস’ (White Nights)-এর আধুনিক ভারতীয় নাট্যরূপ হিন্দি মিউজিক্যাল নাটক ‘চাঁদনি রাতিন’ (Chandni Raatein)-এ অসাধারণ অভিনয় ও সুরের জাদুতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শিমলি। শুধু তাই নয়, ভারতের অন্যতম prestigious থিয়েটার পুরস্কার ‘মহিন্দ্রা এক্সেলেন্স ইন থিয়েটার অ্যাওয়ার্ডস’ (META 2026)-এ এই নাটকের সুবাদেই তিনি ‘সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী’ (Best Actor in a Supporting Role – Female) হিসেবে মনোনীত হয়ে বাংলা ও মুম্বইয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
ছোটবেলায় কিংবদন্তি বাবা স্বপন বসুর কোন গানগুলো তাঁকে সবচেয়ে বেশি টানত? স্মৃতির পাতা উল্টে শিমলি জানান, বাবা-র গাওয়া দুঃখের গানগুলো তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলত। বিশেষ করে ‘এত রাইতে কেনে ডাক দিলি প্রাণ’ গানটি তাঁর সর্বকালের অত্যন্ত পছন্দের। আড্ডার মাঝে ভালোবাসার সেই গানটি নিজের জাদুকরি গলায় দু’কলি শুনিয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধও করেন তিনি। তবে বাবা স্বপন বসুর জনপ্রিয় লোকগান যেমন ‘থাকিলে ডোবা খানা’ বা ‘বলো কী নন্দলাল’-এর মতো গানগুলো ভীষণ উপভোগ করলেও, তিনি নিজে কখনোই সেই গানগুলো গাওয়ার সাহস পান না। শিমলির স্পষ্ট কথা, ওই সুর ও গায়কী শুধুমাত্র বাবা স্বপন বসুর গলায় মানায়, তাই একমাত্র তিনিই তাতে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারেন।
দুর্গাপুজো মানেই বাতাসে প্রেমের আমেজ আর মন কেমন করা নস্টালজিয়া। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বর্তমানে কার প্রেমে মজেছেন শিমলি বসু? মনের মানুষকে কি খুঁজে পেয়েছেন জীবনের চলার পথে? কবেই বা বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর? এই সমস্ত ব্যক্তিগত রোমাঞ্চকর প্রশ্নের উত্তরে শিমলি ঠিক কী বললেন, তা জানতে এবং তাঁর মনমাতানো লোকগানের জাদুকরি মুহূর্ত উপভোগ করতে অবশ্যই দেখতে হবে এই বিশেষ সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ ভিডিয়োটি।