পুকুরে স্নান করতে যাওয়ার পথে ভয়ংকর নির্যাতন! তিন বছর পর সুবিচার পেল গাজোলের পকসো মামলার ভুক্তভোগী

মালদা জেলা পকসো আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে স্বস্তি ফিরেছে নির্যাতিতার পরিবারে। দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াই এবং ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর অবশেষে নাবালিকা মেয়েকে যৌন নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত প্রতিবেশীকে ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনালেন বিচারক। এই চাঞ্চল্যকর রায়দানকে কেন্দ্র করে মালদা জেলা আদালত চত্বরে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর। মালদার গাজোল থানার অন্তর্গত একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ১৫ বছরের এক নাবালিকা স্থানীয় একটি পুকুরে স্নান করতে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগেই পরিচিত প্রতিবেশী অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটিকে ডেকে পাঠায় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে তার মুখ চেপে ধরে জোর করে নিজের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় ওই লম্পট প্রতিবেশী।

বাড়ি ফিরে কাঁদতে কাঁদতে ভুক্তভোগী নাবালিকা সমস্ত ঘটনা তার বাবা-মাকে খুলে বলে। মেয়ের মুখে এই অকথ্য অত্যাচারের কথা শুনে স্তূপীকৃত ক্ষোভ ও আতঙ্ক নিয়ে পরিবারের লোকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১২ নভেম্বর নাবালিকার বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি তদন্তে নামে গাজোল থানার পুলিশ। পুলিশের জোরালো তৎপরতায় দ্রুত গ্রেফতার করা হয় মূল অভিযুক্তকে এবং শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া চলার পর মালদা জেলা পকসো আদালতের বিচারক সুস্মিতা গাইন এই মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জোরালো প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্তকে ২০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়দানের পর সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারি আইনজীবী সুপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায় পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে জানান যে, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে মেয়েটি অভিযুক্তকে বিশ্বাস করত এবং তার সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই এই জঘন্য অপরাধ সংগঠিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আদালতের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নির্যাতিতার বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “এতদিনে আমার মেয়ে সুবিচার পেল। আসামী আমাদেরই প্রতিবেশী, যে আমার মেয়েকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছে। সে যে এমন জঘন্য কাণ্ড ঘটাতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আসামীর ফাঁসি হলে আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম, তবে আদালত যে সাজা দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই এমন ঘটনা যেন আর কোনও মেয়ের সঙ্গে না ঘটে।”