ত্রিশূলের শক্তিতে প্রকম্পিত জামনগর! আধুনিকতার যুগেও প্রাচীন সংস্কৃতির রক্তিম ছোঁয়া ফুটিয়ে তুললেন এই মহিলারা

নবরাত্রির বর্ণিল আলোয় যখন গোটা দেশ মেতে উঠেছে আধুনিক ডিজে আর ফিউশন গরবার ছন্দে, তখন গুজরাটের জামনগর এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। গত ৩৭ বছর ধরে নিজেদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পরম যত্নে বাঁচিয়ে রেখেছে এখানকার চারন সম্প্রদায়। ‘শ্রী সোনাল মাতা নবরাত্রি সমিতি’ এবং ‘সোনাল গরবী मंडल’ আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব কেবল কোনো সাধারণ নৃত্য নয়, বরং এটি চারন সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক পরিচয় এবং ভক্তির এক অপূর্ব প্রতীক।
এখানের গরবার বিশেষত্ব হলো এর প্রাচীন অনুশাসন এবং অনন্য শৈলী। যেখানে আজ সর্বত্র আধুনিকতার ছোঁয়া, সেখানে যুবতীরা দেবী শক্তির প্রতীক ‘ত্রিশূল রাস’ পরিবেশন করেন এবং পুরুষরা ফুটিয়ে তোলেন বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রতীক ‘মनियाরো রাস’। ঢোল ও ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের সংমিশ্রণে এই দৃশ্য ভক্তদের মন জয় করে নেয়। বুধবার রাতে এই ত্রিশূল রাসে অংশ নেওয়া বিজया আলাভাই খেলিয়া জানান, হাতে ত্রিশূল নিয়ে নাচ করার সময় মনে হয় স্বয়ং দেবী জগদম্বা তাঁদের মাঝে উপস্থিত রয়েছেন।
সোনাল গরবী মণ্ডলের আয়োজক করনা গঢ়ভি বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা। আধুনিকতার স্রোতে যাতে আমাদের লোকসংস্কৃতি হারিয়ে না যায়, সেই জন্যই এই দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা।” দেবীর কৃপা ও ভক্তির আবহে ঘেরা এই মেগা উৎসব প্রমাণ করে যে খাঁটি সংস্কৃতি কখনোই পুরনো হয় না।