বিশ্ব বাণিজ্যে চরম বিপদ! সৌদি আরবের আকাশসীমা সিল করে হুংকার ছাড়ল হুতি বিদ্রোহীরা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত এখন এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সর্বনাশা মোড়ে এসে পৌঁছেছে। ইয়েমেনের হूती বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কৌশলগত বিমানবন্দর এবং জ্বালানি খাতের প্রাণকেন্দ্র ‘অরামকো’-র ওপর লাগাতার ও তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। রাজধানী রিয়াদের বুকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ, তেল শোধানাগারে বিধ্বংসী আগুন এবং সৌদি সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হানার ফলে গোটা উপদ্বীপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও হূতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে এই লড়াই এখন আর কেবল সৌদি আরব বা ইয়েমেনের দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্র বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সামনে এক ভয়াবহ দুর্যোগের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
হীতির সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, তারা কৌশলগতভাবে ধাহরানস্থিত সৌদি অরামকো কমপ্লেক্স, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীর শোধনাগারে ড্রোন ও ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে অরামকো চত্বরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের পর বহুলাংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলে দাবি করেছে এবং কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবুও রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ তথা তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বহুমুখী বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ার স্বপ্নের পথে এই হামলা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
এদিকে, হূতি বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই লড়াই কোনো দূরবর্তী দেশের প্ররোচনা নয়, বরং ইয়েমেনের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক অনিবার্য जवाबी লড়াই। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড এবং দুই-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা হূতিরা আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব সত্ত্বেও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির জোরে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত ‘বাব আল-মন্দেব’ জলডমরুমध्यের ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বদলে দিচ্ছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি শক্তির মোকাবিলায় হূতিদের এই অনমনীয় মনোভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের নির্মম বলি হচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ। রেড ক্রস ও রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, তায়েজ শহরের মতো অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ নারী ও শিশু চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে।