আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের এয়ার ডিফেন্স কেন ব্যর্থ? মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ দখলে মরিয়া হুতিদের চাঞ্চল্যকর কৌশল ফাঁস!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে সৌদি আরব এক চরম কৌশলগত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বা ‘অংসারুল্লাহ’ বিদ্রোহীদের অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ রিয়াদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সেরা অস্ত্র এবং শক্তিশালী বিমান বাহিনী থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব যেন এক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে। অবস্থা দেখলে মনে হয়, কেউ নিজের ঘরে কোটি কোটি টাকার উন্নত তালা ও অ্যালয়াম সিস্টেম বসিয়ে সুরক্ষিত করতে চেয়েছে, কিন্তু চোর এসে মূল দরজায় আঘাত হানতেই সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এখন সৌদি প্রশাসন ইসলামপুর, আঙ্কারা, ওয়াশিংটন ও লন্ডনের অস্ত্র নির্মাতাদের কাছে নতুন কোনো ত্রাতা বা উন্নত ব্যবস্থার খোঁজ করছে।
গত তিন মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক জোট কেন হুতিদের পুরোপুরি দমন করতে পারছে না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোরদার আলোচনা। রয়্যাল সৌদি এয়ারফোর্স (RSAF)-এর কাছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এফ-১৫ (F-15) ফাইটার জেটের বিশাল ও আধুনিক বহর রয়েছে। এপিজি-৬৩ (APG-63) অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড র্যাডার, ডিজিটাল ফ্লাই-বাই-ওয়্যার ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সর্বাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মে সজ্জিত এই যুদ্ধবিমানগুলোর দাপটে বিশ্বের যেকোনো দেশের বিমান বাহিনী কাঁপতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে ইউরোফাইটার টাইফুন, টর্নেডো এবং আধুনিক জ্যামিং বা নজরদারি বিমান। কিন্তু এতসব আকাশছোঁয়া সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি বিমান বাহিনী যখন ইয়েমেনের পাহাড়ি আস্তানা বা অস্ত্রভাণ্ডারে উপর থেকে লাগাতার বোমা বর্ষণ করে, তখন ধুলো ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখে মনে হয় বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই বোমাবাজি কেবল পাহাড়ের উপরিভাগকেই আঘাত করে। ২০১৪-১৫ সালে ইয়েমেনের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হুতিরা পাহাড়ের অন্তভাগে সুরঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ষাটের বা সত্তরের দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ও চিনা সহায়তায় এই দুর্ভেদ্য সুড়ঙ্গগুলো নির্মিত হয়েছিল। সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যখন সুড়ঙ্গের প্রবেশদ্বারে হামলা চালায়, তখন হুতি ইঞ্জিনিয়াররা সামান্য সময়েই তা মেরামত করে নেয়। অপরদিকে, রোজ কোটি কোটি ডলার খরচ করেও সৌদি বাহিনী যমেনি ড্রোন ও গেরিলা কৌশলের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।