ফাঁসির সাজা পেলেই কি দড়ি টানানো যায়? মুসকান ও সাহিলের সামনে আর কত দিন সময় রয়েছে?

উত্তরপ্রদেশের চাঞ্চল্যকর ‘ব্লু ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে নিম্ন আদালত। অপরাধের নৃশংসতা বিচার করে আদালত কোনো রকম নমনীয়তা দেখাতে রাজি হয়নি। তবে এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেই একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে— কবে কার্যকর করা হবে এই ফাঁসি?

আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের এই রায়ের তাৎক্ষণিক কার্যকরের কোনো সুযোগ নেই। আদালত সাজা ঘোষণার পাশাপাশি আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য ৯০ দিন সময় দিয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাহিল ও মুসকান মৃত্যুদণ্ডের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের রাস্তাটি বেশ দীর্ঘ:

  • হাইকোর্টে আপিল: হাইকোর্ট যদি আসামিদের আপিল আবেদন গ্রহণ করে, তবে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।

  • সুপ্রিম কোর্ট ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ভিক্ষা: হাইকোর্ট যদি নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে, তবে আসামিদের সামনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার এবং পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার সাংবিধানিক অধিকার থাকবে।

  • রায় বাতিল হলে: আর যদি কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়, তবে মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।

ফলে মেরঠের এই পৈশাচিক কাণ্ডে অপরাধীদের ফাঁসির সাজা ঘোষণা হলেও, চূড়ান্ত পরিণতি কোন দিকে মোড় নেবে, তার জন্য এখনও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অপেক্ষা রয়েছে।