জরুরি প্রয়োজনে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা তুলতে পারবেন? জেনে নিন ইপিএফও-এর নতুন নিয়ম

জরুরি প্রয়োজনে প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) জমানো টাকা তোলার নিয়ম সহজ করেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। চিকিৎসা, শিক্ষা, বিয়ে কিংবা সংসারের কঠিন সময়ে কর্মচারীরা যাতে সহজেই এই তহবিলের সুবিধা পেতে পারেন, তার জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত টাকা একসঙ্গে বা ইচ্ছেমতো তোলা সম্ভব নয়, কারণ প্রতিটি প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইপিএফও-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পিএফ থেকে আংশিক বা অগ্রিম উত্তোলনের প্রক্রিয়াকে মূলত তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— অত্যাবশ্যকীয় খরচ, পারিবারিক খরচ এবং বিশেষ পরিস্থিতি। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য গ্রাহককে অবশ্যই কমপক্ষে ১২ মাসের জন্য ইপিএফও-র সদস্য হতে হবে।

১ লক্ষ টাকা ব্যালেন্স থাকলে কত তুলবেন? নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যপদের ১২ মাস মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর একজন যোগ্য কর্মী তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তুলতে পারেন। অর্থাৎ, আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে যদি ১ লক্ষ টাকা জমা থাকে, তবে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আপনি একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। এই টাকার অঙ্কের মধ্যে কর্মী ও নিয়োগকারী সংস্থা উভয়ের অবদান এবং তার উপর জমা হওয়া সুদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে আবেদন করার আগে সুনির্দিষ্ট বিভাগের শর্তগুলি ভালো করে দেখে নেওয়া জরুরি।

পুরো টাকা কবে তোলা যায়? কর্মচারী যদি চাকরি হারান, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর তহবিলের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত তুলতে পারেন। বাকি ২৫ শতাংশ অ্যাকাউন্টেই থেকে যায়, যতক্ষণ না তিনি টানা ১২ মাস বেকার থাকেন। এর পর তিনি চাইলে অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ অর্থই তুলে নিতে পারেন।

চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচে নিয়ম কী? জরুরি বা গুরুতর চিকিৎসা খরচকে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন হিসেবে ধরা হয়েছে। এই প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পিএফ থেকে অগ্রিম টাকা তোলার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমার কড়াকড়ি রাখা হয়নি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইপিএফও-র নির্ধারিত নিয়মাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএফ থেকে বারবার টাকা তুললে দীর্ঘমেয়াদী অবসরকালীন সঞ্চয় এবং তার ওপর পাওয়া সুদ অনেকটাই কমে যায়। তাই একান্ত জরুরি প্রয়োজন না হলে এই সঞ্চয়ে হাত না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। অপ্রত্যাশিত সংকটের জন্য আলাদাভাবে ইমার্জেন্সি ফান্ড বা জরুরি তহবিল তৈরি করে রাখাই শ্রেয়।