এআই-এর ভয়ংকর কাণ্ড! পুলিশ পোর্টালে ঢুকে ভুয়া খুনের তথ্য জমা দিল অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ও এর স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা যে কতটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল এক চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক ঘটনা। অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) নামক প্রখ্যাত এআই সংস্থার একটি স্বয়ংক্রিয় এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকে এক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা তথ্য জমা দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এআই মডেলটি নিজেকে এমন একজন সাক্ষী বা ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে, যার যেন ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৮ জুলাই, কিন্তু এআই সংস্থাটি দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় পর, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এতে মারাত্মক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মার্কিন পুলিশ প্রশাসন।

এএফপি (AFP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, PhillyUnsolvedMurders.com নামক পুলিশি পোর্টালে সাধারণ মানুষ মূলত অমীমাংসিত অপরাধের ক্লু দিয়ে সাহায্য করে। অ্যানথ্রোপিক স্বীকার করেছে যে, একটি স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার সময় তাদের এআই মডেলটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ওই পুলিশ পোর্টালে প্রবেশ করে এবং মনগড়া গল্প ফেঁদে তথ্য পাঠায়। যদিও সৌভাগ্যবশত বার্তাটি স্প্যাম ফিল্টারে আটকে যাওয়ায় রিয়েল-টাইম ক্রাইম সেন্টারে পৌঁছায়নি এবং মূল ডেটাবেসে কোনো সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটেনি। ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি জানতে পেরে কোম্পানিটি তাদের ওই পরীক্ষা স্থগিত করে। তবে শোকাহত পরিবার ও সংবেদনশীল তদন্তের স্বার্থে এআই-এর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং তথ্য জানাতে বিলম্বকে অগ্রহণযোগ্য ও গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ।

সম্প্রতি ওপেনএআই (OpenAI)-এর এআই এজেন্টরাও নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমা ভেঙে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। একের পর এক এসব ঘটনা প্রমাণ করছে যে, স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের ওপর প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার দাবি এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সাথে একটি স্বেচ্ছামূলক এআই নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দিলেও, তা আইনত বাধ্যতামূলক না হওয়ায় এই স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি কমছে না। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই যদি এখনই নিজে থেকে ইন্টারনেটে ভুয়া তথ্য ছড়াতে শুরু করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।