শচীন-যুবরাজদের দল থেকে তাড়ানো হয়েছিল কেন? ১২ বছর পর মুখ খুলে বোমা ফাটালেন প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক!

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্বর্ণযুগ পেরিয়ে যখন পরিবর্তনের ঝড় এসেছিল, ঠিক তখনই শচীন তেণ্ডুলকর, যুবরাজ সিং, গৌতম গম্ভীর এবং জাহির খানের মতো বিশ্বজয়ী কিংবদন্তিদের কেন হঠাৎ দল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল—এই দীর্ঘদিনের রহস্য নিয়ে অবশেষে বোমা ফাটালেন ভারতের তৎকালীন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাটিল। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই তারকা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বন্ধুত্বের খাতিরে তাঁরা কখনোই দল নির্বাচন করেননি। বরং দেশের ভবিষ্যৎ এবং ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েই সেই কঠিন সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছিল।

দূরদর্শনের জনপ্রিয় শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-তে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিয়ে সন্দীপ পাটিল স্পষ্ট করে দেন যে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁর কার্যকালে পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটি যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছিল, তা কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ছিল না। সচিন, যুবরাজ, গম্ভীর ও জাহিরের মতো তারকাদের সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “আজ এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে আমার খুব খারাপ লাগে। কিন্তু কেন তাঁদের দল ছাড়তে হয়েছিল বা অবসর নিতে হয়েছিল, সেই আসল কারণটি ওই তারকারা নিজেরাই খুব ভালো করে জানেন।”

পাটিলের মতে, জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ব্যক্তিগত সমীকরণ বা আবেগের কোনো স্থান থাকে না। কেউ তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু হলেও পারফরম্যান্স এবং দলের ভবিষ্যৎ না থাকলে তাঁকে দলে টিকিয়ে রাখা যায় না, যা এক জন নির্বাচক হিসেবে অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক হলেও মেনে নিতে হয়। ভারতীয় ক্রিকেটের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের এমন কিছু কড়া সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যা ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের নিজেরও ভালো লাগেনি।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ভারতীয় দল যখন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময়েই ধাপে ধাপে সিনিয়র ক্রিকেটাররা দল থেকে দূরে সরতে শুরু করেন। তৎকালীন নির্বাচক প্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেটের সেই সংবেদনশীল অধ্যায়কে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল। বর্তমানে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পাটিলের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।