‘ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোকে শেষ করে দিন মা!’ দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মা উমার কাছে চরম প্রার্থনা অগ্নিমিত্রার

শারদোৎসবের আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার রাতে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে দুর্গাপুজোর এক প্রাক-উৎসবের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মা দুর্গার কাছে দেশবিরোধী শক্তি ও সমাজবিরোধীদের বিনাশ করার প্রার্থনা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ আজ সর্বক্ষেত্রে শক্তিশালী হয়ে উঠছে দাবি করে মন্ত্রী হুংকার ছাড়েন, দেশের অগ্রগতির পথে যারা পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে, মা দুর্গা যেন তাদের চিরতরে নির্মূল করেন।

এদিন দুর্গাপুরের জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য বাজি ফাটানোর পর্ব চুটিয়ে উপভোগ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যবাসীকে শারদোৎসবের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের দেওয়া সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার আবেদন জানান। পাশাপাশি তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, সাধারণ মানুষের উৎসবের দিনগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং পুলিশ-প্রশাসন মুড়ে থাকবে নিরাপত্তায়। সাম্প্রতিককালে ইডেন গার্ডেনসের একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই বিপুল জনস্রোত প্রমাণ করে দিয়েছে যে বিজেপি দলটিকে ঘিরে ‘বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী’ বলে যে মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।

নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একনিষ্ঠ ও অনুগত সৈনিক বলে দাবি করে মন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলার প্রতিটি মানুষ এ বারে কোনো রকম ভয় বা দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিশ্চিন্তে দুর্গোৎসব দেখুন এবং প্রাণভরে উপভোগ করুন। পুজোর দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তে আমরা সর্বক্ষণ সজাগ ও প্রস্তুত থাকব।”

আসন্ন দুর্গাপুজোয় যাতে বাংলার আপামর জনসাধারণ কোনো রকম বিঘ্ন ছাড়াই উৎসবের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে ফেলেছে রাজ্য সরকার—এমনটাই আশ্বস্ত করেন তিনি। সোমবার দুর্গাপুরের এই বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পন্নামবলাম, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই-সহ প্রশাসনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।