পিতৃপুরুষের স্মরণে তর্পণ আর দেবীপক্ষের আবাহন! সাগরদ্বীপে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া উৎসাহ

আজ মহালয়া। বিশেষ এই পবিত্র তিথিতে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির উদ্দেশে সন্তানরা তর্পণ করে থাকেন। মহালয়ার এই পুণ্যলগ্নে ভোররাত থেকেই গঙ্গাসাগরে শুরু হয়েছে পুণ্যস্নান ও পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ। দেবীপক্ষের সূচনায় পুণ্যলাভের আশায় হাজার হাজার মানুষের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে সাগরদ্বীপ। সাগরে স্নান ও তর্পণ সেরে সকাল থেকেই কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দিতে ভিড় জমিয়েছেন পুণ্যার্থীরা।

পুরাণ অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময় পূর্বপুরুষরা পৃথিবীতে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এই সময় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পিণ্ড ও জল গ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণ করে সন্তানের পাশে থাকেন। এই পক্ষে অন্ন ও জল দিলে পূর্বপুরুষরা শক্তি পান। যার ভিত্তিতে তিনি পরলোকে যাত্রা করতে পারেন ও পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ করেন।

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাট, মূল স্নানঘাট এবং কপিলমুনি আশ্রম চত্বরে মোতায়েন রয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। জলপথে দুর্ঘটনা এড়াতে সক্রিয় রয়েছে কোস্টাল পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। নির্দিষ্ট ড্রপ গেট এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

যাতায়াতের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত বাস ও ভেসেল চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, অস্থায়ী শৌচালয় ও পোশাক পরিবর্তনের ঘরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সমস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে পুণ্যস্নান ও পুজোর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। শুধু গঙ্গাসাগর নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন নদীর ঘাটেও সকাল থেকে মহালয়ার পুণ্যস্নান ও তর্পণ করতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলিতেও পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

গঙ্গাসাগরের বাসিন্দা দেবাশিস বেড়া জানান, মহালয়ায় গঙ্গাসাগরের পুণ্যভূমিতে স্নান করে দেবীপক্ষের সূচনা করেছেন এবং পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করে তাঁদের স্মরণ করেছেন। মহালয়ার সকালে গঙ্গাসাগরের এই ধর্মীয় আবহে একদিকে যেমন পিতৃপুরুষের স্মরণে তর্পণ চলছে, তেমনই অন্যদিকে দেবীপক্ষকে স্বাগত জানিয়ে কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দিতে ভক্তদের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল গঙ্গাসাগরে তর্পণ করে কপিলমুনি মন্দিরে পুজো দেন। মহালয়ার সকালে গঙ্গাসাগরের পাশাপাশি বারুইপুর সদাব্রত গঙ্গার ঘাটেও এলাকাবাসীরা তর্পণ ও পুজোয় ভিড় জমিয়েছেন।