‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ মন্তব্যে সুপ্রিম কোর্টে বিরাট স্বস্তি রাহুলের! থমকে গেল রাফাল মানহানি মামলার বিচার

রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মানহানি মামলায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলায় নিম্ন আদালতের সমস্ত বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। একই সঙ্গে রাহুলের আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিশ পাঠিয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময় রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল জাতীয় রাজনীতি। তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ এবং ‘চিফ অফ থিভস’-এর মতো কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি নেতা মহেশ শ্রীশ্রীমল মহারাষ্ট্রের গিরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেয়।
নিম্ন আদালতের সেই সমন ও মামলা খারিজ করার আর্জি জানিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর বম্বে হাইকোর্ট তাঁর সেই আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, অভিযোগকারী বিজেপির সদস্য হওয়ায় এই ধরনের মন্তব্যে তিনি আঘাত পেয়েছেন এবং মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে। হাইকোর্টের এই রায়ের পরই আইনি লড়াই চালাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাহুল গান্ধী।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে রাহুলের আইনজীবীরা জানান যে, এই মানহানি মামলা আইনত টিকতে পারে না। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর শীর্ষ আদালত গিরগাঁও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান মামলার পরবর্তী সমস্ত কার্যধারার ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকার এবং অভিযোগকারী বিজেপি নেতাকে নোটিশ পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। আদালতের এই পদক্ষেপে সাময়িকভাবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস শিবির। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে এখনও কিছু সময় লাগবে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর।