সন্দেশখালীর পর এবার তিহাড়ের পথে হেভিওয়েট মন্ত্রী? জামিন খারিজ হতেই সুজিত বসুর কপালে চিন্তার ভাঁজ!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক বড়সড় ভূকম্পন! পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িয়ে আইনি জালে আরও বেশি করে আটকে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ সুজিত বসুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল। ইডি-র আনা আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পরই আদালত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিনের শুনানিতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এসভি রাজু আদালতে বিস্ফোরক সব তথ্য পেশ করেন। তিনি জানান, সুজিত বসুর সরাসরি নির্দেশেই পুরসভায় বিপুল সংখ্যক প্রার্থীকে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৩৪০ জন প্রার্থীর সুপারিশের জন্য মাথা পিছু ৬ লক্ষ টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মন্ত্রীর নামে মোট ৮.৮ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এমনকি সেই কালো টাকা তিনি তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকা করে ট্রান্সফার করেছিলেন বলে অভিযোগ।

তদন্তে ধৃত প্রোমোটার অয়ন শীলের জবানবন্দি থেকেও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অয়ন ইডিকে জানিয়েছেন, চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি রেফার করতেন সুজিত বসু। এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুপারিশপত্রও তিনি পুরসভায় পাঠিয়েছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র দক্ষিণ দমদম পুরসভাতেই ১৫২ জনের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী।

অন্যদিকে, সুজিত বসুর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে জোরালো যুক্তি দেন যে, মূল চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম ছিলই না। সম্প্রতি একটি অতিরিক্ত চার্জশিট দাখিল করে চক্রান্ত করে তাঁর নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না, ফলে তাঁর পক্ষে চাকরি দেওয়া অসম্ভব। ২০২১ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালে এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও, তাঁর অজান্তে এক জুনিয়র আইনজীবী ফাইল চাইতে যাওয়ায় তিনি মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর মামলাটি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয় এবং মঙ্গলবার জামিনের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ হয়ে যায়।