‘ঠিকমতো ছাপ্পাও দিতে পারে না!’ রেজিনগরে চতুর্থ হয়েও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বড় মুখ খুললেন মমতা

রাজ্যের দুই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে গেরুয়া ঝড়ের সাক্ষী থেকেছে রাজ্য রাজনীতি। দুই আসনেই বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। কিন্তু এই মেগা জয়ের ফলাফলকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে উল্টে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা নিয়েই চরম প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা মমতা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে এটিই ছিল মমতা তৃণমূলের প্রথম কোনো বড় নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনে দলের ফলাফল একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। নন্দীগ্রামে প্রথমে প্রার্থী দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সঞ্চিতা প্রধান দে নামে সেই প্রার্থী নিজেই নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। অন্যদিকে, রেজিনগর কেন্দ্রে লড়াইয়ে নেমে সামান্য ভোটই ঝুলিতে তুলতে পেরেছে দলটি। মাত্র ৩,৮৩৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁদের। উল্লেখ্য, এই দুই কেন্দ্রেই রেকর্ড মার্জিনে জয় পেয়েছে বিজেপি—যেখানে নন্দীগ্রামে লক্ষাধিক এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন পদ্ম প্রার্থীরা।
এত বড় ব্যবধানে দলের এই ভরাডুবি এবং প্রতিপক্ষের এই ঐতিহাসিক জয়কে পাত্তাই দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে রাজ্যজুড়ে ভোট প্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান শাসনকালে সুষ্ঠুভাবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের এই ফল প্রকাশের পর তাঁর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।