৬০০০ মার্কিন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরেই কোপ! এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে বড় বিপাকে মাইক্রোসফটের সিইও

আমেরিকায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতি নিয়ে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে হঠাৎ কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করার ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণ উলটো ছবি দেখা গেল ওয়াশিংটনে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলাকে দেশের সর্বোচ্চ ‘ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন’ (জাতীয় প্রযুক্তি ও নবীনত্ব পদক) সম্মানে ভূষিত করেন। ট্রাম্প মাইক্রোসফটে নাদেলার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর কাজের বিপ্লবকে সাধুবাদ জানান। ট্রাম্পের হাত থেকে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি অর্জনের জন্য এই সম্মান গ্রহণ করা শিল্পপতিদের মধ্যে অধিকাংশই প্রবাসী। স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং এএমডির সিইও লিসা সু-ও এই সম্মান লাভ করেছেন।

তবে এই সম্মানপ্রদানের ঠিক আগে আমেরিকার উপ-রাষ্ট্রপতি জে ডি ভেন্স এক সাংবাদিক বৈঠকে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর ও কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন। অভিবাসন আইন এবং এইচ-১বি (H-1B) ভিসা নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মাইক্রোসফটকে সেই বিশেষ সরকারি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করার কথা ঘোষণা করা হয়, যার মাধ্যমে কোম্পানিগুলি দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। ভেন্স সরাসরি অভিযোগ করেন যে, মাইক্রোসফট গত বছর প্রায় ৬,০০০ মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, অথচ সমান্তরালভাবে ৬,৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩,০০০ গ্রিন কার্ড হাসিল করেছে। প্রশাসনের সাফ কথা, স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের অন্ধকারে রেখে সস্তায় বিদেশি কর্মী বা “বন্ডেড লেবার” বাতালে তা বরদাস্ত করা হবে না।

এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা মার্কিন কর্মীবাহিনীর শক্তি ও মেধার ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। কোম্পানি স্পষ্ট করেছে যে, গত অর্থবছরে এইচ-১বি ভিসার জন্য যে প্রায় ৬,০০০ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল, তার ৮০ শতাংশই ছিল সংস্থার বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা কাজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য। কোনো নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে সেগুলি করা হয়নি। এছাড়া যে সামান্য সংখ্যক নতুন আবেদন করা হয়েছিল, তাঁরা ইতিমধ্যেই আইনিভাবে মার্কিন মুলুকেই বসবাস করছিলেন এবং মোট কর্মীবাহিনীর মাত্র এক শতাংশ। মাইক্রোসফট দাবি করেছে যে, তারা কর্মীদের শিল্পের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতন প্রদান করে এবং যোগ্যতার কঠোর মানদণ্ড মেনেই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একদিকে হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি সম্মান এবং অন্যদিকে উপ-রাষ্ট্রপতির কড়া আইনি কোপ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে এখন মার্কিন মুলুকের টেক ইন্ডাস্ট্রিতে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।